আঁই কিত্তাম?

0
355

তোকে বলেছিলাম
চল পুকুরে ডুব সাতরে
বাইন মাছ ধরবো
তুই শুনিস নি
এখন সমুদ্রের দামি মাছ দিয়ে
ভাত খেয়ে ভালো না লাগলে
আঁই কিত্তাম!!!
তোকে বলেছিলাম
চল নারকেল গাছের কোটর থেকে
শালিকের ছানা এনে পুষবো
তুই শুনিস নি।
এখন শালিক দেখে তোর
মন আনচান করলে
আঁই কিত্তাম!!!
তোকে বলেছিলাম
চল বৈশাখের বৃষ্টিতে
দুজন মিলে কাদা মেখে
ভিজে লুটোপুটি খাই
তুই আসিস নি।
এখন ইট পাথরের চার দেয়ালে
বৃষ্টির শব্দহীন ভেজা চোখে
তোর চোখ ছল ছল করলে
আঁই কিত্তাম।
তোকে বলেছিলাম চল
ঐ ঝোপের আড়ালে বসে
দুজনের হাতে হাত রেখে
গল্পের আসর বানাই।
তুই আসিস নি।
এখন তোর ফেসবুক টুইটারের
গল্প ভালো না লাগলে
আঁই কিত্তাম।
তোকে বলেছিলাম
চল ভরা জোছনায় ক্ষেতের আইলে
বসে চাদের আলোয় গা ভাসাই
তুই আসিস নি।
এখন চাদের জোছনা
না দেখতে পেয়ে
মন খারাপ করলে
আঁই কিত্তাম।
তোকে বলেছিলাম
চল তাল ও কলা পাতার
কুটিরে ইটের বালিশে
মাথা রেখে দুজন দুজনার
স্বপ্ন সাজাই
তুই আসিস নি এখন
আলো ঝলমলে প্রাসাদোপম
বাসায় শুয়ে স্বপ্ন ভাংগা
হৃদয়ের নিরব আর্তনাদ করলে
আঁই কিত্তাম।
তোকে বলেছিলাম
চল স্কুল ফাকি দিয়ে
“স্বান্ত্বনা” সিনেমা হলের
তৃতীয় শ্রেণির বেঞ্চে বসে
“বেদের মেয়ে জোসনা” দেখি
তুই আসিস নি
এখন এসি রুমে ব্লক বাস্টার
সিনেমা দেখে ভালো না লাগলে
আঁই কিত্তাম।
তোকে বলেছিলাম
চল নারকেল পাতার শলা
ও সাদা কাগজ দিয়ে ঘুড়ি বানিয়ে
দুজনেই স্বপ্ন উড়াই
তুই আসিস নি।
এখন বিমানের ককপিটে বসে
সেই দিনের ঘুড়ি উড়ানোর
স্বাদ না পেলে
আঁই কিত্তাম।
তোকে বলে ছিলাম
চল খড়ের গাদায় লুকিয়ে
“মাসুদ রানা” সিরিজের
“কুউউ” পড়ি
তুই শুনিস নি
এখন বিশ্বের তাবত থ্রিলার পড়ে
ভালো না লাগলে
আঁই কিত্তাম।
সময়ের কাজ সময়ে না করে
অসময়ে অশ্রু নিজের যেমন ঝরছে
তেমনি ঝরছে আমারও
কিন্তু কথায় কথায় আমাকেই
তুই দোষারোপ করিস
আঁই কিত্তাম, ক’
আঁই কিত্তাম।

-কবি শেখ মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন
রায়শ্রী, শাহরাস্তি, চাঁদপুর