উখিয়ায় কারিতাস বাংলাদেশের নতুন প্রেসিডেন্ট ও নির্বাহী পরিচালককে সংবর্ধনা দিলেন কর্মীরা

0
6

কক্সবাজার প্রতিনিধিঃ

দেশের অন্যতম বেসরকারি উন্নয়ন প্রতিষ্ঠান কারিতাস বাংলাদেশের নতুন প্রেসিডেন্ট মহামান্য বিশপ জেমস রমেন বৈরাগী এবং নির্বাহী পরিচালক মি. সেবাস্টিয়ান রোজারিও মহোদয়কে রোববার কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলায় কারিতাস বাংলাদেশের ফিল্ড কার্যালয়ে বিশেষ সংবর্ধনা প্রদান করা হয়।

ইমার্জেন্সি রেসপন্স প্রোগ্রাম (ইআরপি) অথবা জরুরি সাড়াদান প্রকল্প এই অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।- প্রেস বিজ্ঞপ্তি।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে, কারিতাস বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট ও নির্বাহী পরিচালক “নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ কর্নার” বিষয়ক একটি প্রদর্শনীর এবং ১৬ দিনব্যাপী কার্যক্রম উদ্বোধন করেন।

কারিতাসের প্রেসিডেন্ট এবং নির্বাহী পরিচালকের সবংর্ধনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জরুরি সাড়াদান প্রকল্প পরিচালক সি. মার্সেল রতন গুদা, হেড অব প্রোগ্রাম মো. আব্দুল্লাহ ফুয়াাদ, হেড অব অপারেশন মিস্টার ইনমানুয়েল চয়ন বিশ্বাস প্রমুখ।

সবংর্ধনা অনুষ্ঠানে মহামান্য বিশপ জেমস রমেন বৈরাগীর সম্মানে একটি মানপত্র পাঠ করা হয়। কারিতাস বাংলাদেশের নতুন প্রেসিডেন্ট এবং নির্বাহী পরিচালকের সম্মানে বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানের আগে, কারিতাস বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট এবং নির্বাহী পরিচালক কারিতাস কর্তৃক স্থানীয় বাঙ্গালাদেশী জনগোষ্ঠীর জন্য পরিচালিত ‘‘কাজের বিনিময়ে অর্থ’’ কর্মসূচীর একটি চলমান কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। তাদের সঙ্গে এসময় দাতা সংস্থা কারিতাস জার্মানী এবং কারিতাস স্পেন এর প্রতিনিধিগণও উপস্থিত ছিলেন।

এক নজরে কারিতাসের জরুরি সাড়াদান প্রকল্প (ইআরপি):
২০১৭ সালের আগস্ট মাসে ব্যাপকভাবে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করার পর থেকেই কারিতাস বাংলাদেশ বাস্তুচ্যুত ও দুর্দশাগ্রস্থ এই জনগোষ্ঠীর সহায়তায় কাজ করে যাচ্ছে।

বর্তমানে কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলাধীন ১২টি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে– আশ্রয়ন সহায়তা, খাদ্যছাড়া অন্যান্য সামগ্রী সহায়তা, সাইট ইমপ্রুভমেন্ট, ওয়াশ, সুরক্ষা সহায়তা, দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস (ডিআরআর) কার্যক্রম তথা জীবিকা উন্নয়নে বিভিন্ন সহায়তা প্রদান করে যাচ্ছে।

স্থানীয় পরিবেশ রক্ষায় তথা ব্যাপকহারে বৃক্ষনিধন ঠেকাতে কারিতাস বাংলাদেশ রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার সরবারহ, চারাগাছ রোপন, সোলার লাইট স্থাপন কার্যক্রম শুরু করে। অন্যদিকে, স্থানীয় বাংলাদেশি হোস্ট কমিউনিটিকে নানান সহায়তা প্রদান করে যাচ্ছে কারিতাস বাংলাদেশ।

কারিতাস বাংলাদেশের ইতিহাস পরিক্রমাঃ
বাংলাদেশ কাথলিক বিশপ সম্মিলনীর একটি স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান কারিতাস বাংলাদেশ। ১৯৬৭ খ্রিষ্টাব্দে তৎকালীন পাকিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় শাখা অফিস হিসেবে কারিতাসের যাত্রা শুরু হয়। পরবর্তীতে ১৯৭০ খ্রিষ্টাব্দের ১২ নভেম্বর প্রলয়ংকারী ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানার পর ক্ষতিগ্রস্থ উপকূলীয় এলাকার জনসাধারণের সাহায্যার্থে চট্টগ্রাম ধর্মপ্রদেশে Chittagong Organization for Relief and Development (CORD) নামে সংস্থাটি গঠিত হয় এবং আরো কিছুদিন পরে সংস্থাটি Christian Organization for Relief and Rehabilitation (CORR) নামে কার্যক্রম শুরু করে। জানুয়ারি ১৩, ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দে এটি একটি জাতীয় প্রতিষ্ঠানে রূপ নেয় অর্থাৎ ঢাকায় প্রধান কার্যালয় স্থাপনসহ সারা দেশে কার্যক্রম পরিচালনার রূপরেখা তৈরি হয়।

বিশেষভাবে উল্লেখ্য যে, ১৯৭২ খ্রিষ্টাব্দের ১৯ জুন সদ্য স্বাধীন দেশের গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের অনুমোদন লাভ করে এবং একটি জাতীয় সংস্থা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। পরবর্তীতে ১৯৭৬ খ্রিষ্টাব্দে সংস্থাটি কারিতাস বাংলাদেশ নাম ধারণ করে। এর ফলে, ১৯৭২ খ্রিষ্টাব্দকে কারিতাস বাংলাদেশের সূচনা বা জন্ম হিসেবে ধরা হয়। সময়ের বিবেচনায় সংস্থাটি আজ ৫০ বছরের পথ অতিক্রম করতে যাচ্ছে। তাই নভেম্বর, ২০২১ খ্রিষ্টাব্দ থেকে অক্টোবর, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত সময়কালে কারিতাস বাংলাদেশ-এর সেবাকর্মের যাত্রায় ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে সুবর্ণজয়ন্তী/জুবিলী বর্ষ উদযাপনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।

কারিতাস জাতীয় পর্যায়ের একটি বিশ্বস্ত প্রতিষ্ঠান। বর্তমানে রাজধানী ঢাকার শান্তিবাগে রয়েছে এর প্রধান কার্যালয়। এছাড়া অঞ্চলভিত্তিক কার্যালয়গুলো হচ্ছে- বরিশাল, চট্টগ্রাম, ঢাকা, দিনাজপুর, খুলনা, ময়মনসিংহ, রাজশাহী এবং সিলেট অঞ্চল। এসব অফিসের মাধ্যমে দেশের ৫৩ জেলার ১৮৭টি উপজেলায় কারিতাস কাজ করছে। বর্তমান প্রকল্প সংখ্যা ১১২টি এবং সুফলভোগীর সংখ্যা প্রায় ১৭ লক্ষ মানুষ।

কারিতাসের রয়েছে তিনটি দেশসেরা স্বনামধন্য ট্রাস্ট মিরপুর এগ্রিকালচারাল ওয়ার্কশপ এন্ড ট্রেনিং স্কুল (মট্স), কোর-দি জুট ওয়ার্কস্ এবং কারিতাস ডেভলপমেন্ট ইন্সটিটিউট (সিডিআই)। এ ছাড়াও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কারিতাস পরিচালনা করছেন ১৮২টি ইউনিট অফিস, ১০টি ট্রেনিং সেন্টার, ২৪৬টি সাইক্লোন সেন্টার, ১১টি টেকনিক্যাল স্কুল, ৩২টি যক্ষ্মা ও কুষ্ঠরোগ নিরাময় কেন্দ্র, ২টি মাদক নিরাময় কেন্দ্র, ৯টি মাদকাসক্ত, সেক্স ওয়ার্কার, পথশিশু ও নির্যাতন বিরোধী সহায়তা কেন্দ্র এবং ৩৮টি ডে কেয়ার ও হোম কেয়ার কেন্দ্র।