সুখপাঠ্য বর্ণনার পুস্তক ‘জ্যাকসন হাইটস্ জার্ণাল’

0
64

মাইন উদ্দিন আহমেদ, নিউ ইয়র্ক থেকে
বাংলাদেশী আমেরিকানদের যুক্তরাষ্ট্রে অন্যতম প্রাণকেন্দ্র হচ্ছে জ্যাকসন হাইটস্। যে কোন আয়োজনের প্রথম ও প্রধান আকর্ষনীয় ভাবনা হলো এই স্হানটি। বাংলাদেশ থেকে যারা আমেরিকা আসে তারা একবার এখানে না এলে বা এখানকার কোন অনুষ্ঠানে যোগ না দিলে আগমনটা যেনো সার্থক হয়না। আমেরিকার অন্যান্য রাজ্যে যেসব বাংলাদেশী থাকেন তাঁরাও যেনো নিউ ইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসে একবার আসার জন্য সুযোগের অপেক্ষায় থাকেন। এটা ছাড়া সব কিছু কেমন যেনো অসম্পূর্ণ থেকে যায় বলে মনে হয়।
জ্যাকসন হাইটস্ কেন্দ্রিক এই মনোটান চমৎকারভাবে লক্ষ এবং উপলব্ধি করেছেন দীর্ঘ দিন ভয়েস অফ এ্যামেরিকার নিউ ইয়র্ক সংবাদদাতা হিসেবে কাজ করেছেন এমন একজন মানুষ, সবার প্রিয়জন, জনাব আকবর হায়দার কিরন। বিভিন্ন অনুষ্ঠান, বিভিন্ন উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিদের আগমন প্রভৃতি নিয়ে খুবই আগ্রহের সাথে পড়ার মতো লেখা উপহার দিতে শুরু করেন তিনি, বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন পত্রিকায়, ম্যাগাজিনে। তিনি যখন লিখেছেন তখনও সবার কাছে এগুলো সুখপাঠ্য মনে হয়েছে। যার কারনে বিজ্ঞজনেরা লেখাগুলো গ্রন্হবন্দি করার জন্য পরামর্শ দিয়েছেন। সেই অনুযায়ী লেখাগুলো পুস্তকাকারে ‘জ্যাকসন হাইটস্ জার্ণাল’ নামে মুদ্রিত হয় ২০২০ সালে যার দ্বিতীয় মুদ্রণ হয় এ বছর অর্থাৎ ২০২১ সালে।
এই বইয়ের বিষয়বস্তু হিসেবে এমন সব মানুষেরা এসেছেন যে, পড়ে না দেখলে এর মজাই বুঝা যাবেনা। সকল স্তরের হরেক রকমের শত মানুষের গঠনমূলক বাস্তব কাহিনী এতো দরদ দিয়ে লিখেছেন কিরন সাহেব যা মানুষকে খুব সহজেই বিষয়বস্তুর মধ্যে নিবিষ্ট করে ফেলে। আমেরিকা ছাড়া অন্য রাষ্ট্রে বসবাসকারী বংলাদেশীরা আমেরিকায় এলে জ্যাকসন হাইটস তাঁদেরকেও চুম্বকের মতো টেনে নিয়ে আসে। এ সব কাহিনীও এসেছে বইটিতে।
‘জ্যাকসন হাইটস্ জার্ণাল’ বইটিতে বহু বহু মানুষের আগমন কাহিনী মনের মাধুরী মিশিয়ে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে, এমন ভাবে যে, পড়তে পড়তে পাঠকবৃন্দ লেখককেও ভালোবেসে ফেলেন। এতো এতো মানুষের কাহিনী লিখেছেন যে, কয়েকজনের নাম উল্লেখ করলে অন্যদের প্রতি অবিচার করা হবে এবং বিষয়টি সীমাবদ্ধ হয়ে যাবে। তাই আমরা বরং পাঠকদেরকেই অনুরোধ করবো নামগুলো আবিষ্কার করতে। আমরা হলফ করে বলতে পারি, পাঠক বইটি এতোই পছন্দ করবেন যে, এর তৃতীয় মুদ্রণেরও প্রয়োজন পড়বে খুব কাছাকাছি সময়ে।
‘জ্যাকসন হাইটস্ জার্ণাল’ ঢাকার বাংলাবাজার থেকে প্রকাশ করেছেন অন্বয় প্রকাশ-এর গুলশান আরা বাবলী। নিউ ইয়র্কে এটি মুক্তধারায় পাওয়া যাবে। কোলকাতায় পাওয়া যাবে কলেজ স্ট্রিট-এর অরিয়লে। বাংলাদেশে রকমারিডটকম এবং বইবাজার অনলাইনে কেনা যাবে। বইয়ের দাম রাখা হয়েছে বাংলাদেশী মুদ্রায় তিনশত টাকা আর আমেরিকার মুদ্রায় পনেরো ডলার।
বইটির ব্যতিক্রমী, আকর্ষনীয় এবং মানসম্পন্ন একখানা প্রচ্ছদ করেছেন রাগীব হাসান।
‘জ্যাকসন হাইটস্ জার্ণাল’ পড়ুন এবং খুঁজে বের করুন কি বাদ পড়েছে। আমাদেরকে বলুন, তা লেখক জেনে যাবেন এবং আপনার কথা থাকলে তাও অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। তবে যা আছে তা পাঠক এক টানেই পড়ে ফেলবে কারন এযে আমার, আপনার এবং আমাদের কথা।
দ্বিতীয় সংস্করণে কিছু ছবি সংযোজিত হয়েছে যেগুলো তুলেছেন নিহার সিদ্দিকী। জ্যাকসন হাইটসের মানুষজন মনে করেন, আরো কিছু ছবি অন্তর্ভুক্ত হওয়া উচিত যা তৃতীয় সংস্করণে বাস্তবায়ন সম্ভব হবে বলে আমরা মনে করি।
চমৎকার এই বইটি পাঠকমহলে নিয়ে আসার জন্য লেখককে অনেক অনেক ধন্যবাদ।