গরীবের ডাক্তার এজাজুল এখনো রোগী দেখেন ৩০০ টাকায়

0
11

গাজীপুর থেকে সৃজন মার্টিন মন্ডল :

ডাক্তারের চেম্বারে ঢুকতেই চোখে পড়লো নানান বয়সের রোগীর ভীড়। নেমপ্লেটের দিকে তাকিয়েই অবাক না হয়ে উপায় নেই। নতুন রোগী ৩০০, পুরাতন রোগী ২০০। গরীব রোগীর বেলায় সেটাও শিথিলযোগ্য।

জনপ্রিয় কৌতুক অভিনেতা হিসাবে সবাই চেনেন। কেউ বাংলা নাটক বা সিনেমা দেখেন অথচ এজাজুল ইসলাম এর মুখ চেনেন না সেটা ভাবা যায় না। কিন্তু অভিনয়ের পাশাপাশি উনি যে একজন দক্ষ ডাক্তার সেই পরিচয় হয়তো অনেকেরই অজানা।

বৃহত্তর রংপুর তথা গাইবান্ধার কৃ‌তিসন্তান, যি‌নি রোগী দেখার ফি শিথিল করে ‘গরীবের ডাক্তার’ হিসাবে পরিচিতি পেয়েছেন তিনিই ডাঃ এজাজুল ইসলাম।

জনপ্রিয় কথা সাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের মাধ্যমেই নাটকে আগমন ঘটে ডাঃ এজাজুল ইসলাম এর।

পরবর্তীতে তিনি চলচ্চিত্রেও অভিনয় করেন। তার অভিনীত প্রথম চলচ্চিত্র শ্রাবণ মেঘের দিন। এর পর তিনি দুই দুয়ারী, চন্দ্রকথা, শ্যামল ছায়া চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন।

তিনি তারকাঁটা চলচ্চিত্র অভিনয়ের জন্য ৩৯ তম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে শ্রেষ্ঠ পার্শ্বচরিত্রে অভিনেতার পুরস্কারে ভূষিত হন।

ডাঃ এজাজুল ইসলাম ১৯৮৪ সালে রংপুর মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাশ করেন। পরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নিউক্লিয়ার মেডিসিনে স্নাতকোত্তর পাশ করেন।

ডাঃ এজাজুল ইসলাম একজন ডাক্তার হিসেবে তার কর্মজীবন শুরু করেন। তিনি গাজীপুর চৌরাস্তায় একটি চেম্বারে নিয়মিত রোগী দেখেন।

তিনি এখনো ৩০০ টাকা ফিতে রোগী দেখেন। তার ভিজিট ফি কম হওয়ায় তাকে গরীবের ডাক্তার নামে ডাকা হয়।

২০১৭ সালের অক্টোবর মাসে এজাজুল ইসলাম ঢাকা মেডিকেল কলেজে নিউক্লিয়ার মেডিসিনের প্রধান হিসেবে যোগদান করেন।

ডা. এজাজুল ইসলাম বলেন, “গাজীপুরে আমার ব্যক্তিগত চেম্বারে প্রতিদিন সন্ধ্যায় রোগী দেখি। অনেকেই আসেন চিকিৎসা নিতে। আমি আমার সাধ্যমতো চেষ্টা করি তাদের সুস্থ করে তোলার। কোন রোগী হয়তো নতুন করে আবারও সামনে এনেছে বিষয়টি । মাঝে মধ্যে রুগীরা আবেগে আপ্লুতো হয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট দিয়ে বসে। এর মধ্যে গত রাত্রে টাঙ্গাইল থেকে একজন এসেছিল। ছবি তুলে নিয়ে গেছে মনে হয়।”

ডাঃ এজাজুল ইসলামের অভিনয়যাত্রাঃ
হুমায়ূন আহমেদ পরিচালিত ধারাবাহিক নাটক ‘সবুজ সাথী’ দিয়েই অভিনয়ের যাত্রা শুরু করেন ডাঃ এজাজুল ইসলাম।

১৯৯৯ সালে হুমায়ূন আহমেদের শ্রাবণ মেঘের দিন চলচ্চিত্রের মাধ্যমে ডাঃ এজাজুল ইসলামের বড় পর্দায় অভিনয়যা্ত্রা শুরু।

পরে তিনি হুমায়ূন আহমেদ পরিচালিত দুই দুয়ারী (২০০১), চন্দ্রকথা (২০০৩), শ্যামল ছায়া (২০০৪), নয় নাম্বার বিপদ সংকেত (২০০৬) ও আমার আছে জল (২০০৮) চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন।

এর পরে ২০০৫ সালে দেবাশীষ বিশ্বাস পরিচালিত কমেডি ছায়াছবি ‘টক ঝাল মিষ্টি’ তে পুলিশের চরিত্রে অভিনয় করেন।

২০০৬ সালে বাদল খন্দকার পরিচালিত বিদ্রোহী পদ্মায় নায়েব, তৌকির আহমেদ পরিচালিত রূপকথার গল্প সিনেমায় রেস্টুরেন্ট ম্যানেজার, এসএ হক অলিক পরিচালিত হৃদয়ের কথায় দারোয়ান চরিত্রে অভিনয় করেন।

২০০৭ সালে জাকির হোসেন রাজু পরিচালিত স্বামীর সংসার ছায়াছবিতে অভিনয় করেন। একই বছর মতিন রহমান পরিচালিত রোমান্টিক-কমেডি তোমাকেই খুঁজছি ছায়াছবিতে অভিনয় করেন।

এরপর অনন্য মামুন পরিচালিত খোঁজ-দ্য সার্চ (২০১০) এবং আশরাফুর রহমান পরিচালিত তুমি আসবে বলে (২০১২) মুক্তি পায়।

২০১৪ সালে ডাঃ এজাজুল ইসলাম- মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজ পরিচালিত তারকাঁটা, নঈম ইমতিয়াজ নেয়ামুল পরিচালিত এক কাপ চা, নজরুল ইসলাম খান পরিচালিত কঠিন প্রতিশোধ ও ওয়াজেদ আলী সুমন পরিচালিত কি দারুণ দেখতে ছায়াছবিতে অভিনয় করেন।

তারকাঁটা চলচ্চিত্রে মুসা ভাই চরিত্রে অভিনয়ের জন্য ৩৯তম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে শ্রেষ্ঠ পার্শ্বচরিত্রে অভিনেতার পুরস্কার অর্জন করেন।