ঢাকায় শীত কম, তাই গরম কাপড়ে চরম লোকসান!

0
5

রতন মালো:

‘‘কি আর কমু, ডিসেম্বর গেলো, জানুয়ারি আইলো, ঢাকায় শীত নাই এহনো! এবার গরম কাপড়ে কোন ব্যবসা নাই, চরম লোকসান গোনলাম,” কথাগুলো বলেন রাজধানীর ফুটপাতে নানান ধরনের কাপড় বিক্রেতা মোক্তার হোসেন।

ঝিনাইদহ থেকে পরিবার নিয়ে ঢাকায় এসে কাপড় বিক্রি করেই চলে মোক্তার হোসেনের। প্রতি বছর শীতে একটা ভালো লাভ তোলেন লটের সোয়েটার বা গরম কাপড় বিক্রি করে।

কিন্তু চলতি মৌসুমে শীতের দাপট রাজধানীতে নেই বললেই চলে। রাজধানীবাসীর তাই শীত থেকে রক্ষায়ও নেই তেমন প্রস্তুতি। গরম কাপড়ের বিকিকিনিও তাই কম।

চাঁদপুরের করিম মিঞা বললেন, তিনি গত বছর ডিসেম্বরে মিরপুর-১০ নাম্বার মোড়ে এক বিকালেই বিক্রি করেছিলেন ২০০ কান টুপি। ওইদিন হঠাৎ করেই ঠান্ডা পরেছিলো। শৈতপ্রবাহে রাজধানীবাসী রাস্তায় বেরিয়ে বিপাকে পড়ে কানটুপি নিয়েই বাড়ি ফিরেছিলো।

‘‘এবার রাজধানীতে কোন শৈতপ্রবাহই নাই। কানটুপির বেচাকেনাও নাই,” করিম মিঞা যোগ করেন।
মিরপুর-১৩ নাম্বার বাজার মসজিদের সামনে বেশ কয়েকজন কাপড় বিক্রেতা অলস সময় পার করছিলেন। তাদের মুখেও একই কথা।

‘‘এবার শীতই তো আসলো না। হাকডাক দিতে লইজ্জা লাগে। লাভ কি? সবাই একখান শার্ট পিন্দা ঘুরতাছে মাস্ক লাগাইয়া। মাস্কের চাইতে গরম কাপড়েরর দাম কম,’’ বলেন গরম কাপড় বিক্রেতা সাজেদুল করিম।

‘‘কম্বল উঠাইছিলাম ১০০ পিচ। মাত্র ১০ টা বেচিছি। তার মধ্যে শীত গেছে মনে হয়,’’ বলছিলেন ফোরকান আলী নামের একজন কাপড় বিক্রেতা।

তিনচারজন বয়স্ক লোক একসাথে আসছেন কিছু গরম কাপড় কিনতে। তাদের মধ্যে একজন বললেন, তিনি অন্যদের বললেন তিনি ডিসেম্বরের মাঝামাঝি একটা পাতলা সোয়েটার কিনেছিলেন, কিন্তু তেমন শীত পড়ে নাই। তাই এবার ভারী গরম কাপড়ের আর দরকার হবে না আশা করি।

পৃথিবীর উষ্ণায়ন এর ফলেই কি তবে শীতকালের এই দশা? বিজ্ঞানীরাই ভালো বলতে পারবেন। অন্য বছরের তুলনায় এবার শীত কিছুটা কম রাজধানীতে।

উত্তরবঙ্গের ওপর দিয়ে ইতোমধ্যে কয়েকটি শৈতপ্রবাহ চলে গেছে, তবে ব্যতিক্রম রাজধানী। রাজধানীতে ২০২০ সালের ডিসেম্বরে হালকা পাতলা শীত পড়লেও বড় কোন শৈতপ্রবাহ এখন পর্যন্ত অনুভুত হয় নাই।