৭ মার্চেই কার্যত স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছেন বঙ্গবন্ধু: মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী

0
245

হাসান মামুন, ষ্টাফ রিপোর্টার:

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ.ম রেজাউল করিম এমপি বলেছেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যে পথ-পরিদর্শক হিসেবে বাংলাদেশকে এগিয়ে নেয়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন, তারই কন্যা শেখ হাসিনা আজ সে পথ-পরিক্রমা অনুসরন করেই আধুনিক বাংলাদেশ বিনির্মানের পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেছেন। মন্ত্রী রোববার পিরোজপুর জেলা প্রশাসকের হল রুমে মুজিব বর্ষে প্রথমবার ঐতিহাসিক ৭ মার্চ এবং জাতীয় দিবস পালন উপলক্ষ্যে ভার্চুয়ালে যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেছেন, “১৯৭১ সালের ৭ মার্চেই বঙ্গবন্ধু ল ল মানুষের সামনে কার্যত স্বাধীনতার ঘোষণা এবং স্বাধীনতা যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার দ্ব্যর্থহীন সিদ্ধান্ত দিয়েছিলেন। যদিও ২৬ মার্চে পরিপূর্ণভাবে বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছেন। বঙ্গবন্ধু ৭ মার্চের ভাষণে জাতিকে প্রস্তুত হতে বলেছিলেন।

তিনি ভাষণে বলিছেলেন, এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম। একটি জাতির অতীত ইতিহাস, বর্তমান প্রোপট আর ভবিষ্যত পরিকল্পনা এত চমৎকারভাবে বিশ্বের কোন জাতীয়তাবাদী নেতা তাঁর স্বাধীনতা সংগ্রামকে ঘিরে এভাবে করতে পারেন নি, যেটা বঙ্গবন্ধু ৭ মার্চের ভাষণে করে দেখিয়েছেন। এজন্য বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ বিশ্বের বিস্ময়।”

তিনি আরো বলেন, “এবছর বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের পঞ্চাশতম বছরে আমরা পদার্পণ করেছি। এ ভাষণ ইউনেস্কো বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে তালিকাভুক্ত করে সংরণ করেছে। জাতিসংঘের সকল দাপ্তরিক ভাষায় অনূদিত হয়ে সকলের কাছে পৌঁছে দেয়া হয়েছে। এ ভাষণ আজ শুধু বাঙালির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে। বঙ্গবন্ধুর এ ভাষণ পৃথিবীর বিস্ময়কর ও কল্পনাতীত এমন একটি সৃষ্টি যে সৃষ্টির ভেতর অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যতের দিক-নির্দশনা নিহিত ছিলো। তাই এটি ইতিহাসের মহাকাব্য। এটি একটি দর্শন। যে কারণে এ ভাষণ বারবার গবেষণার দাবী রাখে।”

বাংলাদেশের আধুনিক রাষ্ট্র ব্যবস্থায় অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিা, চিকিৎসা কোন ক্ষেত্রেই আমরা পিছিয়ে নেই উল্লেখ করে শ ম রেজাউল করিম আরো বলেন, “সম্প্রতি কমনওয়েলথ বিশ্বের যে তিনজন নারী নেতাকে করোনা পরিস্থতি মোকাবেলায় সাহসী সাফল্যের জন্য স্বীকৃতি দিয়েছে তার অন্যতম বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা। জাতিসংঘ বিশ্বখ্যাত নেতৃত্বের তালিকায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বিবেচনা করে।

বিশ্বখ্যাত ম্যাগাজিন বঙ্গবন্ধু কন্যাকে বিশ্বের অন্যতম সৎ ও পরিশ্রমী প্রধানমন্ত্রী বলছে। বঙ্গবন্ধুর প্রদর্শিত পথেই শেখ হাসিনা আমাদের এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। একারণে আজ বাংলাদেশ বিশ্বের বিস্ময়। বাংলাদেশের সরকার প্রধানকে বলা হয় উন্নয়নের জাদুকর।” জাতীয় ঐক্যের প্রশ্নে দল-মত নির্বিশেষে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও মুক্তিযুদ্ধের প্রতি শ্রদ্ধা রাখার জন্য এসময় সকলকে আহ্বান জানান মন্ত্রী। বিভ্রান্ত না হয়ে স্বাধীনতাবিরোধী ও প্রতিক্রিয়াশীলদের রাষ্ট্র মতায় প্রতিষ্ঠিত না করারও অনুরোধ জানান তিনি।

জেলা প্রশাসক আবু আলী মোঃ সাজ্জাদ হোসেনের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় অন্যান্যের মধ্যে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক চৌধুরি রওশন ইসলাম, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেবেকা খান, জেলা আওয়ামীলীগৈর সাধারণ সম্পাদক এমএ হাকিম হাওলাদার, যুগ্ম সম্পাদক আক্তারুজ্জামান ফুলু, সাংগঠনিক সম্পাদক জিয়াউল আহসান গাজী, সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার গৌতম রায় চৌধুরি, সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতা মাকসুদুল ইসলাম লিটন সিকদার, যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মো. কামরুজ্জামান খান শামীম, জেলা পুজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক গোপাল বসু, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জাহিদুল ইসলাম টিটু, জেলা আওয়ামী ওলামা লীগ নেতা মাওলানা ফারুক আবদুল্লাহ ও সংবাদ কর্মীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ের প্রতিনিধিগন এসময উপস্থিত ছিলেন।