হৃদয় মালাকার এর একগুচ্ছ কবিতা

0
205



বলতে পারো রাষ্ট্র?


আমার মুখের রেখা থেকে শুকিয়ে গেছে যে সুখ
তাকে শেষতমবার কে দেখেছিল মনে নেই
আমি ভুলে গেছি অনেক কিছু।

ফুলের যৌবন দেখে আজকাল কোনও শিহরণ জাগে না
এই অবিভক্ত অন্ধকারের মুখে আমাকে ডুবতে দেখে
কেউ প্রস্তাব রেখেছিল রাজনীতির।
এই ক্ষুধার্ত পৃথিবীতে সবাইই জীবনের চরম রাজনীতি করে
তার নিজের পেটের সাথে,
কোনও পার্টির মিছিলে অজগরের মতো এঁকে বেঁকে
যে মানুষের স্রোত বয়ে চলেছে,
আমার চোখে সে স্রোত কেবল খিদের আর পাকস্থলীর
আমিও তাদেরই দলে প্রকাশ্যে প্রশস্ত করেছি পথ।

আমার মুখের রেখা থেকে শুকিয়ে গেছে যে সুখ
তবু সে আর কিছুতেই ফিরে এলো না।
আমার চোখের থেকে মরে গেছে ঘুম
এই ক্ষুধার্ত পেট নিয়ে-
তার পুনর্জন্মের অপেক্ষা আর কতদিন করবো
বলতে পারো রাষ্ট্র?


মানবী

হে আমার মায়াবী মানবী, আর কতো পোড়াবে
এ প্রগাঢ় নির্জনতা?
তোমার আস্কারা পেয়ে আমার চোখ চঞ্চল হয়েছে
একটা নিঃশ্বাসের অন্তরালে তৈরি হয়েছে
দীর্ঘমেয়াদী নীরবতা।
তুমি ভালোবাসতে ভুলে গেছো
তুমি ভুলে গেছো আমায় যত্ন করে বিষ পান করাতে
আর কতো পোড়াবে এ প্রগাঢ় নির্জনতা?

অন্তরের যে ভাষায় লণ্ডভণ্ড চোখের কিনারা বেয়ে
নেমে যায় বিপদ
সে বিপদ হওয়ার সৌভাগ্যও আমাকে দিলে না!
আমি তো তোমার ছায়ার ভেতর
কোনোক্রমে টিকে থাকা একটি লাশ,
কেনো বেমালুম পোড়াচ্ছ এ প্রগাঢ় নির্জনতা?
হয় ভালোবাসো, নয় তো
আমাকে ছিন্নভিন্ন করে নষ্ট করে দাও
হে আমার মায়াবী মানবী, ভুলে গেছো?
তোমারই নাভিকূপে আমার প্রথম মৃত্যু হয়েছিলো।


নদী ও জলের সঙ্গম

অসুখের বক্রবূহ্য যদি ঘিরে ফেলে আমার মুষলধার
তবে কে দেবে মুক্তির শর্তবিহীন ডাক?
যদি অধঃপতন আমাকে টেনে নিয়ে যায়
সহনশীলতার বাইরে,
তবে কে দেখবে আমার ঘৃণার দাগ?
সহস্রবর্ষ আমি সাধনায় আছি
এবার শেষ করো তোমার মৌনতা,
যেটুকু চিৎকার কণ্ঠে জমে আছে
ছুড়ে দাও আমার সন্নিকটে,
লণ্ডভণ্ড করে দাও ধ্রুপদী ধ্যানমগ্নতা।

জীবন-সংসারের প্রতি যে গভীর কর্তব্য ছিল
তোমাকে পাওয়ার আশায় আমি বেমালুম ভুলে গেছি।
এসো দু’জনে খুলে বসি; মুখোমুখি
দেখো আমাকে, আমার চতুর্দিক কেমন আলগা হয়ে গেছে
তারই এক প্রান্তে দোদুল্যমান আমি
শিশুর চোখের মতো তোমার অপেক্ষা করে যাচ্ছি।

কিন্তু তুমি অপলক দেখছো তোমার একমাত্র পছন্দের
নদী ও জলের সঙ্গম
তোমার কোনও হুশ নেই নারী,
আমি ক্রমে ক্রমে মানুষ থেকে প্রেমিক হয়ে গেছি
এখন আমি কী আর নদী হতে পারি!