সাহিত্যে নোবেল পেলেন ফরাসি লেখক অ্যানি এখঁনো

0
162


শহিদুল ইসলাম নিরব:
এবার সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার জিতে নিলেন ফরাসি লেখক অ্যানি এখঁনো। গত ৬ অক্টোবর বৃহস্পতিবার বিকেলে সুইডেনের স্টকহোমে এক সংবাদ সম্মেলনে তাঁর নাম ঘোষণা করেন সুইডিশ অ্যাকাডেমি। ১৭ তম নারী হিসেবে তিনি এই পুরস্কার জিতেছেন। অ্যানি এখঁনো ১৯৪০ সালের ১ সেপ্টেম্বর এক দরিদ্র ঘরে জন্ম গ্রহণ করেন এবং নরম্যান্ডির একটি শহরে বেড়ে উঠেন। এখন তার বয়স ৮২ বছর চলছে। অ্যানি এখঁনোর সাহিত্য মূলত আত্মজীবনীমূলক ও স্মৃতিকথামূলক। তিনি সাহিত্য রচনা করেছেন তার যাপিত জীবনে ঘটে যাওয়া নানা ঘটনার উপর ভর করে। বেদনার দিনগুলোকে এঁকেছেন মেঘ রঙিন রঙে। স্বপ্ন আশাকে বারবার জাগিয়েছেন ফিনিক্স পাখির মত। এ যেন এক অপ্রতিরোধ্য জীবনকে তিল তিল করে শব্দের সম্ভারে সাজিয়েছেন অ্যানি। অনেকটা দুঃখ বিক্রি করেই অ্যানি এ বিজয় ছিনিয়ে এনেছেন। জীবনের সব অভাব ও অপূর্ণতাকে পূর্ণতা দিয়েছে সাহিত্যেরর মাধ্যমে।

তাঁর লেখা ‘অ্যা উইমেনস স্টোরি’, ‘সিম্পল প্যাশন’ ও ‘অ্যা মেনস প্লেস’ তাঁকে অনেক পরিচিত করে তোলে । এ লেখা গুলোই মধ্যেই তাঁর জীবন ও সংগ্রামের কথা ফুটে উঠেছে । তাঁর আত্মজীবনীমূলক লেখা মনে করে দেয় একজন অভাবগ্রস্ত নারীর জীবনে কত রকমের প্রতিবন্ধকতা আসতে পারে । সেগুলোকে কী ভাবে পায়ে দলে একটা একপেশী বিদ্রোহী ষাড়ের মত এগিয়ে যেতে হয়।

নোবেল কমিটি বলেছেন ‘ সাহস ও ব্যবচ্ছেদীয় প্রখরতার সমন্বয়ে ব্যক্তিগত স্মৃতির শেকড়, বিচ্ছিন্নতা ও সম্মিলিত সংযম উন্মোচন করার জন্য’ তাঁকে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত করা হয়েছে।

তাঁকে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কারের জন্য মনোনীত করার বিষয়ে অ্যাকাডেমির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ‘লিঙ্গ, ভাষা ও শ্রেণি সম্পর্কিত শক্তিশালী বৈষম্য দ্বারা চিহ্নিত একটি জীবন তিনি ধারাবাহিকভাবে এবং বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে পরীক্ষা করেছেন।

অ্যানি মূলত ২০০৮ সালে ‘লে অ্যানি’ প্রকাশ হওয়ার পর বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পান। এটি ২০১৭ সালে ‘দ্য ইয়ার্স’ নামে ভাষান্তরিত হয়। অ্যানির প্রথম উপন্যাস ‘লে আরমোয়ার বিড’ যা ১৯৭৪ সালে প্রকাশিত হয়েছিল। এটি তার সবচেয়ে উচ্চাকাঙক্ষী প্রকল্প, যা তাঁকে আন্তর্জাতিক খ্যাতি এনে দেয় ও একদল ভক্ত তৈরি করতে সক্ষম হন।

২০২১ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার জিতেছিলেন ঔপন্যাসিক আবদুলরাজাক গুরনাহ ও ২০২০ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার জিতেছিলেন আমেরিকান কবি লুইস গ্লিক।

এর আগে ১৫ জন নারী সাহিত্যে নোবেল পেয়েছেন। কৃষ্ণাঙ্গদের মধ্য একমাত্র নারী প্রয়াত টনি মরিসন নোবেল পুরস্কার লাভ করেছিলেন।

এর আগে গত বুধবার (৫ অক্টোবর, ২০২২) রসায়নের নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন যৌথভাবে যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্কের তিন বিজ্ঞানী। যুক্তরাষ্ট্রের ক্যারোলিন আর. বেরতোজ্জি, ডেনমার্কের মর্টেন মেলডাল এবং যুক্তরাষ্ট্রের কে. ব্যারি শার্পলেস। ক্লিক কেমিস্ট্রি অ্যান্ড বায়োঅর্থগোনাল কেমিস্ট্রির উন্নয়নে বিশেষ অবদান রাখায় তাদের এই পুরস্কারের জন্য মনোনীত করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৪ অক্টোবর, ২০২২) পদার্থবিজ্ঞানে যৌথভাবে নোবেল পুরস্কার জিতেছেন ফ্রান্সের অ্যালাইন অ্যাসপেক্ট, যুক্তরাষ্ট্রের জন এফ. ক্লজার এবং অস্ট্রিয়ার অ্যান্টন জেইলিঙ্গার। বেল ইনিকোয়ালিটিস এবং পাইওনিয়ারিং কোয়ান্টাম ইনফরমেশন সায়েন্সে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এ পুরস্কার পেয়েছেন তারা।

সোমবার (৩ অক্টোবর, ২০২২) চিকিৎসাবিজ্ঞানে অবদান রাখায় নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন সুইডিশ বিজ্ঞানী সুভান্তে পাবো। বিলুপ্ত মানবজাতির জিনোম এবং মানবজাতির বিবর্তন সম্পর্কিত আবিষ্কারের জন্য সুডিশ বিজ্ঞানীকে ২০২২ সালের চিকিৎসাবিজ্ঞান অথবা শরীরতত্ত্বে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত করা হয়েছে।

শুক্রবার (৭ অক্টোবর) শান্তিতে নোবেল পুরস্কার ঘোষণা করার কথা। এ রিপের্ট লেখা পর্যন্ত গোষণা করা হয় নি। এছাড়া অর্থনৈতিক বিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার ঘোষণা করা হবে সোমবার (১০ অক্টোবর, ২০২৩)।