যমুনার সার উত্তোলন বন্ধ আমদানিকৃত জমাটবাধাঁ সার নিয়ে বিপাকে কারখানা কর্তৃপক্ষ

0
254

সরিষাবাড়ী  প্রতিনিধি : দীর্ঘদিন ধরে পড়ে উন্মুক্তভাবে পড়ে থাকা নিন্মমানের আমদানি করা জমাটবাঁধা সার উত্তোলন বন্ধ করে দিয়েছে ডিলাররা। খোলা আকাশের নিচে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রাখা ছেঁড়া-ফাঁটা, গলিত ও নিন্মমানের আমদানী করা ২১ হাজার মে.টন সার নিয়ে বিপাকে পড়েছেন কর্তৃপক্ষ। শনিবার সকাল থেকে আমদানিকৃত এ নিন্মমানের সার ও কারখানার উৎপাদিত যমুনা সারসহ ডিলাররা উত্তোলন বন্ধ করায় কারখানায় সার সরবরাহ বন্ধ হয়ে পড়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কারখানার বিসিআইসির ডিলাররা জানান, প্রতি ট্রাকে বরাদ্দকৃত যমুনার উৎপাদিত ইউরিয়া সারের সাথে আমদানিকৃত ১ টন সার উত্তোলন বাধ্যতামুলক করা হয়েছে। এ আমদানিকৃত সারের বস্তা দীর্ঘদিনের ছেঁড়া-ফাঁটা, জমাটবাধাঁ, গলিত ও গুণগতভাবে নিন্মমানের। এ সার কৃষকরা না নেয়ায় মোটা অংকের লোকসান গুনতে হচ্ছে ডিলারদের। এর ফলে শনিবার সকাল থেকে কারখানায় আমদানিকৃত নিন্মমানের সার ডিলারদের নামে বরাদ্দ বন্ধ করার দাবিতে কারখানার উৎপাদিত ইউরিয়া সারসহ উত্তোলন সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করে দিয়েছেন ডিলাররা।
তারাকান্দি ট্রাক ও ট্যাংলড়ি মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল আলম জানান, প্রতিটি ট্রাকে ১২ মে.টন সার বরাদ্দ দেয়া হয়েছে । এর মধ্যে ১১টন যমুনা ইউরিয়া সার ও ১ টন আমদানিকৃত কাফকু সার। এ আমদানিকৃত ১টন সার জমাটবাধাঁ, গলিত ব্যবহার করা অযোগ্য হওয়ায় কৃষকের কাছে বিক্রি করা যায় না। ফলে প্রত্যেক ডিলারের গুডাউনে আমদানিকৃত সার আটকা পড়ে গেছে। যমুনা সার কারখানা থেকে সার উত্তোল করতেই ডিলারদের ১টন সারের মূল্য ১৬ হাজার টাকা লোকসান দিয়ে নিতে হয়। এর ফলে শনিবার সকাল থেকে কমান্ড এরিয়ার ১৯ জেলার ডিলাররা সার উত্তোলন বন্ধ করে দিয়েছে।
যমুনা সারকারখানার বিক্রয় বিভাগের কর্মকর্তা ওয়ায়েছুর রহমান বলেন, জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত এ ৩ মাসকে পিক মৌসুম হিসেবে ধরা হয়। কারখানায় আমদানিকৃত সার মজুদ রয়েছে ২১ হাজার টন ও যমুনার উৎপাদিত সারের মজুদের পরিমান ৬২ হাজার মে.টন। চলতি মাসে প্রতি ট্রাকে সার বরাদ্ধ রয়েছে ১২ টন। এর মধ্যে যমুনা উৎপাদিত ১১ টন ও ১ টন আমদানিকৃত সার বাধ্যতামূলকভাবে উত্তোলনের সিদ্ধান্ত রয়েছে। এ আমদানিকৃত সার জমাটবাধাঁ নিন্মমানের অভিযোগে শনিবার সকাল থেকে ইউরিয়া সার উত্তোলন বন্ধ করে দিয়েছে ডিলাররা। ফলে যমুনার উৎপাদিত সারসহ সরবরাহ সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে পড়েছে।