বোরো আবাদ নিয়ে শঙ্কিত ঠাকুরগাঁওয়ের চাষিরা

0
301


রুবেল ইসলাম, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধিঃ
হঠাৎ করে তীব্র শীত আর ঘন কুয়াশায় কারণে ঠাকুরগাঁওয়ে বরো চাষিরা বীজতলা নিয়ে পড়েছে বিপাকে। সেই সঙ্গে দেখা দিয়েছে নানা প্রকারের রোগ বালাই। ফলে বোরো ধানের চারা নিয়ে দেখা দিয়েছে সংকট। এ অবস্থায় বোরো উৎপাদন নিয়ে চরম আশঙ্কায় রয়েছে চাষিরা।জেলার ৫টি উপজেলায় গত ২ সপ্তাহ ধরে চলেছে মৃদু শ্বৈতপ্রবাহ। চলমান শৈত্যপ্রবাহের কারণে বোরো চাষের বীজতলা ‘কোল্ড ইনজুরি’তে আক্রান্ত হচ্ছে। অনেক বীজতলার বোরো চারা পোড়া বা ঝলসানো রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ছে। তাই চাষিরা তাদের বোরো আবাদ নিয়ে শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। অনেকে বোরো বীজতলায় হরেক রকমের পলিথিনে ঢেকে দিয়ে, সার কীটনাশক স্প্রে করেও তেমন কোন ফল পাচ্ছেন না। এ কারণে আবাদের খরচও বেড়ে যাচ্ছে।ঠাকুরগাঁও জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ আফতাব উদ্দীন জানান, শীতের সময় এমন সমস্যা দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তবে সঠিক পরিমাণের ইউরিয়া সার অথবা জিপসাপ সার দেয়া হলে এ সমস্যা কেটে যাবে। তাছাড়া জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তা এবং উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা চাষীদের এ সমস্যা নিরসনের জন্য বিভিন্ন ভাবে সহযোগিতা ও পরামর্শ প্রদান অব্যাহত রেখেছেন। আমরা আশা করছি চাষীরা সময়মত বোরো আবাদসহ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে সক্ষম হবে।সদর উপজেলার বোরো চাষী আতাবুর রহমান বলেন, ১০ শতক জমিতে বীজতলা লাগিয়েছি। গত কয়েকদিনের টানা শীতের কারণে চারাগুলো বিবর্ণ হয়ে নষ্ট হওয়ার উপক্রম। বিভিন্নজনের নানা পরামর্শ অনুযায়ী স্প্রে করেও কোন লাভ হচ্ছে না।বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার হরিনমারী এলাকার বোরো চাষী নজরুল ইসলাম জানান, এ বছর ধানের দাম মোটামুটি ভালো ছিল। অনেকদিন ধান আবাদ করে তেমন লাভ পাইনি। এবার লাভ পাওয়া বেশি জমিতে বোরো চাষ করবো ভেবে ছিলাম। কিন্তু টানা শ্বৈত্যপ্রবাহের কারণে বীজতলা নিয়ে খুব সমস্যায় পড়েছি। আবহাওয়া ভালো না হলে এ বছর সঠিক সময় বোরো চাষ করা সম্ভব হবে না।সদর উপজেলার রুহিয়া কুজিশহর গ্রামের চাষী রফিকুল ইসলাম জানান, আমার এক মাত্র অর্থকরী ফসল হলো এই বোরো ধান। সারা বছর পরিবারের ভাত, সংসার ও ছেলে-মেয়ের লেখাপড়ার খরচ এখান থেকেই তুলে থাকি। কিন্তু বীজতলায় চারা নষ্ট হয়ে যাওয়ায় দুশ্চিন্তায় আছি।ওই এলাকার স্থানীয় ইউপি সদস্য আনোয়ার হোসেন জানান, আমি পাঁচ বিঘা জমিতে বোরো চাষের জন্য রেডি করেছি। কিন্তু উচ্চ ফলনশীল ব্রি-২৮ ও ২৯ জাতের ১০ শতক জমির বীজ তলার বীজ জ্বলে গেছে। কৃষি অফিসারদের দেয়া পরামর্শও তেমন কোন কাজ হচ্ছে না।বালিয়াডাঙ্গীর আরাজী সরলিয়া গ্রামের বোরো চাষি আব্দুল জলিল। তিনি বলেন, বোরো চারা রক্ষার জন্য বীজতলা পলিথিন দিয়ে ঢেকে দিয়েছি তাও চারা নষ্ট হতে শুরু করেছে। এ দূর্যোগের কারণে বোরো আবাদ করতে পারবো কিনা চরম দুঃচিন্তায় আছি।চলতি মৌসুমে ঠাকুরগাঁও জেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায় ৬৩ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষের জন্য ৫ হাজার হেক্টর জমিতে বীজতলা তৈরীর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে হাইব্রিড জাতের ১২ হাজার ৯৪ হেক্টর ও উচ্চ ফলনশীল (উফশী) জাতের ৪৮ হাজার ২১৫ হেক্টর জমি। এর আগে গত বছর ৬০ হাজার ৩১০ হেক্টরে বোরো আবাদের জন্য ৪ হাজার ৭৯২ হেক্টর জমিতে বোরো বীজতলা তৈরী করেছিল চাষীরা।