বন্ধকৃত রাষ্ট্রায়াত্ব পাটকল চালুর দাবিতে খুলনায় মহাসড়ক অবরোধ, সংঘর্ষ, টিয়ার সেল নিক্ষেপ, আটক ৮

0
234


নিজস্ব প্রতিবেদক, খুলনা
বন্ধকৃত রাষ্ট্রায়াত্ব পাটকল চালুর দাবিতে খুলনার আটরা শিল্পাঞ্চলের ইস্টার্ন গেটে মহাসড়ক অবরোধ করে পাটকল রক্ষায় সম্মিলিত নাগরিক পরিষদ। ১১ মিনিট পর পুলিশ অবরোধকারীদের মহাসড়ক থেকে তুলে দেয়। এরপর শ্রমিকরা প্রতিরোধ করে। এক পর্যায়ে সংঘর্ষ হয়। এ সময় ইটপাটকেল নিক্ষেপ, লাঠিচার্জ ও টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করার ঘটনা ঘটে। এ সংঘর্ষে ৯ জন শ্রমিক ও ৩ জন পুলিশ আহত হয়েছে। একজনকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ সময় পুলিশ ৪ জনকে আটক করেছে।
সোমাবার বেলা ১১টা থেকে ইস্টার্ন গেটে খুলনা যশোর মহাসড়ক অবরোধ শুরু করে শ্রমিকরা। ১১ মিনিট পর পুলিশ এসে তাদের তুলে দিলে উত্তেজনা সৃস্টি হয়। আহত শ্রমিকরা হলেন নাজমা খাতুন, খাদিজা বেগম, হাফিজা বেগম, সুমি রায়, শেফালী বালা, সুচিত্রা বিশ্বাস, সাফিয়া। পুলিশ জানায়, সংঘর্ষ চলাকালে ২ রাউণ্ড শর্টগান ও ৭ রাউণ্ড টিয়ারসেল নিক্ষেপ করা হয়েছে।
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) এডিসি (উত্তর) সোনালী সেন বলেন, শ্রমিকরা পুলিশের ওপর ইট পাটকেল নিক্ষেপ করলে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণেে তৎপর হয়। এ বিষয়ে বিস্তারিত মিডিয়া সেল থেকে জানানো হবে।
পাটকল রক্ষায় সম্মিলিত নাগরিক পরিষদের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট কুদরত-ই-খুদা বলেন, শ্রমিকরা সকালে শান্তিপূর্ণ অবরোধ শুরু করে। পুলিশ সকলকে তুলে দেয়ার পর উত্তজনা সৃস্টি হয়। এরপর পুলিশের লাঠিচার্জ ও টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপে ২ জন শ্রমিক আহত হয়। এদের মধ্যে জেজপআই’র আহমেদ তাসনিম শ্যামলে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আরও একজন মহিলা শ্রমিক আহত হয়েছে।
পাটকল রক্ষায় সম্মিলিত নাগরিক পরিষদের নেতারা বলেন, বিজিএমসির দুর্নীতি ও লুটপাটের কারণে পাটকলে লোকসান হয়েছে। লুটপাটের জন্যই পাটকল ও পাটশিল্প আজ ধ্বংসের পথে। অথচ বিজিএমসির দুর্নীতি ও লুটপাটের ফলে সৃষ্ট লোকসানের দায় সাধারণ পাটকল শ্রমিকদের ওপর চাপাচ্ছে। দুর্নীতিবাজদের অন্যায় শাস্তির ফল ভোগ করছেন শ্রমিকেরা। অবিলম্বে পাটকল চালুর দাবি জানান তারা। শ্রমিক নেতারা আরও জানান, করোনাভাইরাস মহামারিতে সরকারি পাটকল বন্ধ করে দেওয়ায় অনেক শ্রমিকের জীবন চলছে পেশার বদল ঘটিয়ে মানবেতরভাবে। কর্মহারা এ্ই শ্রমিকদের কেউ কেউ সহজ পেশা হিসেবে রিকশা চালাচ্ছেন। কেউবা ফল বিক্রেতা কিংবা নির্মাণ শ্রমিকের কাজেও নেমেছেন। আর এখনও কাজ জোগাড় করতে না পেরে বেকার জীবন পার করছেন অনেকে।
ঘেরাও কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া গণসংহতি আন্দোলন খুলনা জেলা কমিটির আহবায়ক ও পাটকল রক্ষায় সম্মিলিত নাগরিক পরিষদের সদস্য মুনীর চৌধুরী সোহেল বলেন, বিনা উস্কানিতে পুলিশ শ্রমিকদের ওপর হামলা চালায়। এর ফলে ২ জন শ্রমিক গুরুতর জখম হয়েছে। তিনি বলেন, বিজিএমসি এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের দুর্নীতি ও ভ্রান্ত নীতির কারণে পাটশিল্পে লোকসান হচ্ছে। লোকসানের এই দায় নিষ্ঠুরভাবে শ্রমিকদের উপর চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তাদের অন্যায় দুর্নীতির ফল আজ শ্রমিকদের ভােগ করতে হচ্ছে। নিষ্ঠুর এ খেলা বন্ধ করতে হবে। লুটপাটের এ সিন্ডিকেট ভেঙ্গে দিতে হবে। ২৫টি পাটকল বন্ধ করা সরকারের সিন্ধান্ত। সরকার পাটকল বন্ধের জন্য এই করোনা কালকে বেছে নিয়েছে। যাতে শ্রমিকরা আন্দোলন করতে না পারে। তিনি দ্রুত বন্ধ পাটকলগুলো চালুর দাবি জানান।