পাঠপ্রতিক্রিয়া: “ভাদ্দর মাইস্যা কবিতা”||প্রসঙ্গে: মিজান হাওলাদার।

0
222

কবি রুদ্রাক্ষ রায়হান’র সদ্য প্রকাশিত “ভাদ্দর মাইস্যা কবিতা”বইটি পড়লাম। সহজ পথে, সহজ বোধে, সহজ উচ্চারণে কবিতা আউড়াতে তিনি খুব পারদর্শী৷
তিনি গণমানুষের সামষ্টিক মুক্তির স্লোগান লিখেছেন প্রচলিত ভাষায় র্নিভয়ে।প্রত্যেকটি কবিতার নির্মাণকলা ও সৃজন -নন্দনলার একটি বিদ্যুৎ-সার্কিট তৈরি হয়েছে।
তাঁর স্বগোত্রীয় অনেক কবি-র চেয়ে তাঁর বয়ান আমার কাছে ঈর্ষণীয়ভাবে আলাদা মনে হয়েছে।
এই কবি রাষ্ট্রের ছাঁদের নিচে দাঁড়িয়ে- রাষ্ট্রীয় অন্যায়, অনিয়ম-দুর্নীতির ষোলকলা ফাঁস করেছেন নির্ভয়ে৷
আমলা কামলা মন্ত্রীও বাদ পরেনি তাঁর চড় থাপ্পড় থেকে। নিঃসন্দেহে এই কবি-র সাহস আছে।

যেমন কবি “প্রাকটিক্যাল ক্লাস” নামক কবিতায় লিখেছেন:
“তোমাদের পুলিশ ঘুষ খায়
গুলি করে মেরে দেয় অহেতুক মানুষের লাশ
তোমাদের ডাক্তার জীবন নিয়ে লারে লাপ্পা খেলে
তোমাদের শিক্ষক গাইড কোম্পানির দাস
তোমাদের পুরুষেরা ধর্ষক
সুন্দরী রমণীর দল শরীরের বিনিময়ে লজেন্স কিনে খায়
তোমাদের মন্ত্রীরা জোকার
তোমাদের রাজনৈতিক নেতারা এক একটা-
শুয়োরের বাচ্চা হয়ে গেছে
তোমরা রাষ্ট্রকে মুসলমান করেছো
অথচ আমাদের প্রকৃত রাষ্ট্রধর্মের নাম দুর্নীতি।”

কতটুকু অকুতোভয়, দুঃসাহসীক হলে এভাবে নিজস্ব বাকভঙ্গিতে- অভিজ্ঞাতার দ্বান্দ্বিক সংঘর্ষে কবিতা লেখা যায়।তা ভাদ্দর মাইস্যা কবিতা পড়লেই আপনি বুঝতে পারবেন।
এই কবি অনেক কবি-র মতো চাটুকার নয়। দালাল কিংবা চাটুকার হলে এভাবে বাস্তবতা কেউ তুলে ধরতে পারে না৷এভাবে কেউ পারে না রাষ্ট্রীয় অসুখ সমাচার লিখতে।

বইটিতে ম্যাক্সিমসহ মোট ছোট বড় ১৯টি কবিতা রয়েছে। এর মধ্যে আমার সবচেয়ে বেশি ভালো লেগেছে-
১.”প্রাকটিক্যাল ক্লাস”
২.”ব্যাকডেটেড”,
৩.”ওভার ট্রাম্প”
৪.”একজন কবি”
৫.জার্নালিজম ইন ডিক্টেটর’স এম্পেরর,
৬.বিচ্ছিন্ন ঘটনাগুলো
৭.”আ্যান ইউটোপিয়ান কনভারসেশন”

এছাড়াও কয়েকটি ম্যাক্সিম আছে যেমন “কাঁটাতার “,
“ঈর্ষাক্রান্তের প্রার্থনা”, আমার খুব ভালো লেগেছে।

আমি বিমুগ্ধ পাঠক বইটি পড়ে মেধা ও মননের ভেতর অদৃশ্য এবং দৃশ্যমানতার পরিধি ছাড়িয়ে অনস্তিত্বের ভেতর খুঁজে পেয়েছি আমার বলতে না পারা কথাসমূহ।

আর কিছু কিছু কবিতা আমার একদমই ভালো লাগেনি যার মধ্যে হলো “জরুরি বিজ্ঞপ্তি” এমন কবিতা ১/২ বছর ধরে চর্চা করে এমন অনেক লিখিয়ে লিখে থাকে। কথার শেষ কথা হলো —একজন কবির সব কবিতা যে আমার মতো পাঠকের মনে দোলা দিবে -এমন তো কথা নয়।

যাইহোক “ভাদ্দর মাইস্যা কবিতা” বইটিতে নানামাত্রিক চিত্র -গল্প আমি পড়তে পেরেছি এটা পাঠক হিসেবে আমার বিনীত অহঙ্কার।

কবি রুদ্রাক্ষ রায়হান ভাই অনেক অনেক ভালোবাসা। আর ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ প্রতিবাদ ও মানবিক হাহাকারে উৎক্ষিপ্ত সত্যসংবাদনির্ভর আপনার আরো অনেক অনেক কবিতা পড়ার অপেক্ষায়…
আজকের মতো ইতি টানলাম।