নোয়াখালীতে তরুণীকে তুলে নিয়ে রাতভর নির্যাতন: গ্রেফতার ১

0
253

মোহাম্মদ সোহেল, নোয়াখালী প্রতিনিধি
নোয়াখালী জেলা শহর মাইজদী থেকে এক তরুণীকে তুলে নিয়ে ধর্ষণচেষ্টাসহ রাতভর নির্যাতনের অভিযোগে সাবেক স্বামীসহ চারজনের নামে থানায় মামলা হয়েছে।
সুধারাম মডেল থানার ওসি নবীর হোসেন জানান, বৃহস্পতিবার রাতে ১৯ বছর বয়সী ওই তরুণী নিজে এই থানায় মামলা দায়ের করেন। আসামিরা হলেন তরুণীর সাবেক স্বামী ইসমাইল হোসেন বাপ্পি, বাপ্পির বন্ধু রহিম, আরমান ও সাগর নামে এক ব্যক্তি। মামলা দায়েরের পর শুক্রবার ভোরে তরুণীর সাবেক স্বামী বাপ্পিকে কবিরহাট উপজেলার নবগ্রাম থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
ওসি মামলার এজহারের বরাত দিয়ে বলেন, জেলা শহর মাইজদীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে অভ্যর্থনাকর্মী হিসেবে কাজ করেন ওই তরুণী। বুধবার সন্ধ্যায় কর্মস্থল থেকে বাসায় ফেরার সময় মুখ চেপে ধরে অটোরিকশা করে কবিরহাট উপজেলার নবগ্রামে বাপ্পির বাড়িতে নিয়ে যান চারজন মিলে। ওই বাড়িতে ওই দিন অন্য কেউ ছিল না। “চারজন মিলে তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করে। ব্যর্থ হয়ে তার মুখসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে তারা। পরে তারা নেশাদ্রব্য খেয়ে ঝিমিয়ে পড়লে তরুণী পালিয়ে যান।”
ওসি বলেন, তরুণীর মুখসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। করোনাভাইরাস সংক্রমণের আশংকা থাকায় চিকিৎসকের পরামর্শে তিনি চাচার বাড়িতে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন। পুলিশ তরুণীর সাবেক স্বামী ইসমাইল হোসেন বাপ্পিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের ধরার চেষ্টা চলছে।
তরুণীর স্বজনরা জানান, ছোট বেলায় বাবাকে হারান ওই তরুণী। বাবার মৃত্যুর পর মা’ও অন্যত্ব বিয়ের পিড়িতে বসেন। অভিভাবক শূণ্য হয়ে নানির কাছেই বড় হন তরুণী। নবগ্রামে নানির কাছে থাকা অবস্থায় বখাটে ইসমাইল হোসেন বাপ্পির নজরে পড়ে সে। বাপ্পি অনেকটা জোর পূর্বক অপ্রাপ্ত বয়সেই তাকে বিয়ে করতে বাধ্য করে। কিন্তু বিয়ে করেও বাঁচতে পারেননি এতিম মেয়েটি। প্রায় সময়ই তুচ্ছ কারণেই স্বামীর নির্যাতনের শিকার হতে হতো তাকে। মারধর করতেন শাশুড়ি, ননদ ও দেবর। গত দু’মাস আগে তাদের ডিভোর্স হয়ে গেছে।