দীর্ঘ ২০ বছর পর গোপালগঞ্জের প্রভাংশু হত্যার সহস্য উদঘাটন

413
1618

দ্রুত বিচার দাবীতে মানব-বন্ধন

গোপালগঞ্জ থেকে মিজানুর রহমান মানিকঃ 

দীর্ঘ ২০ বছর পর গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ার চাঞ্চল্যকর প্রভাংশু হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটিত হয়েছে। তদন্তে বেরিয়ে এসেছে, দোকান মালিকের  স্ত্রী বা বোনের সঙ্গে গোপন প্রেমের সম্পর্কের জের ধরেই হত্যা করা হয় দোকান কর্মচারী প্রভাংশুকে।

২০০১ সালের ১৫ মার্চ গভীর রাতে কোটালীপাড়ার সিকির বাজারস্থ ‘বাংলাদেশ মেডিকেল হল’ নামক ঔষধের দোকানের কর্মচারী প্রভাংশু বিশ্বাসকে (৩৩) ঘুম থেকে ডেকে তুলে হাত-পা বেঁধে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়।

হত্যাকান্ডের পরদিন ১৬ মার্চ তার পরিবারের পক্ষ থেকে কোটালীপাড়া থানায় একটি হত্যামামলা (নং-০৬) দায়ের করা হয়। পরবর্তীতে কোটালীপাড়া থানা, সিআইডি, পিবিআই, মুকসুদপুর সার্কেল, জুডিশিয়াল তদন্ত ও গোপালগঞ্জ সদর সার্কেল এর ৭ জন তদন্তকারী কর্মকর্তা এ ক্লুলেস হত্যা-মামলাটি তদন্ত করেন।

সর্বশেষ তদন্ত-কর্মকর্তা গোপালগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সানোয়ার হোসেন দু’জন আসামীকে গ্রেফতার করেন এবং এ মামলার রহস্য উদঘাটন করে তিনজন আসামীর বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশীট দাখিল করেছেন।

এদিকে শনিবার বেলা সাড়ে ১১টায় প্রভাংশুর পরিবারসহ কোটালীপাড়ার শতাধিক মানুষ হত্যাকারীদের দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে গোপালগঞ্জ শহরে প্রেসক্লাবের সামনে মানব-বন্ধন করেছে।

মানব-বন্ধন চলাকালে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে ভিকটিমের বাবা প্রেমানন্দ বিশ্বাস, কাকা পুলিন বিশ্বাস, ভাই হিরন্ময় বিশ্বাস ও রনজিত বিশ্বাস অন্যান্ন আত্মীয়স্বজন এবং এলাকাবাসী বক্তব্য রাখেন।

মানবন্ধনে তারা বলেন, আসামীরা উচ্চবিত্ত ও প্রভাবশালী হওয়ায় মামলাটিকে দীর্ঘ ২০ বছর ধরে ঝুলিয়ে রেখেছিল। অনেক দেরিতে হলেও চাঞ্চল্যকর ও ক্লু বিহীন এ হত্যামামলাটির রহস্য উদঘাটন করায় তারা পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞও প্রকাশ করেন। এখন তারা আসামীদের দ্রুত বিচার নিশ্চিতের দাবীতে মানব-বন্ধন করছেন।

গতমাসে দাখিলকৃত চার্জশীটে উল্লেখ করা হয়, হত্যাকান্ডের চার বছর আগে থেকেই প্রভাংশু দোকানে কর্মচারী ছিলেন। কর্মচারী থাকার সুবাদে দোকান-মালিক সুধীর কুমার গৌতমের বাড়িতেই তার তিনবেলা খাওয়া-দাওয়া ও আসা-যাওয়া চলত। এ ফাঁকে তার সঙ্গে দোকান-মালিকের স্ত্রী বা বোনের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

বিষয়টি মেনে নিতে না পেরে দোকান-মালিক সুধীর কুমার গৌতম তার বেয়াই দেবাশীষ বিশারদ ও আরেক আসামী সুশীল দাসকে নিয়ে ১৫ মার্চ গভীর রাতে দোকানের মধ্যেই প্রভাংশুকে ঘুম থেকে ডেকে তুলে হাত-পা বেঁধে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে কিছু ঔষধপত্র এলোমেলো ছিটিয়ে রাখে এবং অজ্ঞাত চোর বা ডাকাত তাকে হত্যা করেছে বলে প্রচার করে।