দীপান্বিতা বিশ্বাস’র কবিতা।

0
159

দামোদর

 

বুকের ভিতর সমুদ্র পুষে রাখার অভিনয় করতে করতে যখন,
শিরদাঁড়া বেয়ে নদী নেমে গেল
গোটা দামোদর আমার নামে লিখে দিয়েছিলে তুমি।
যেদিন জানালায় দাঁড়িয়ে কাকেদের ঝগড়া শুনতে ব্যস্ত ছিলাম..
দামোদর অভিমান করেছিল খানিক। অধিকারবোধ নিয়েই।

ঝাউ মনের ভিতর রাত্রি পুষে রাখে,
বসন্ত এলে ঘুমিয়ে যায়।
লাউয়ের ডগা দিয়ে যখন পোস্ত রান্না হয়..
সুখ গুলো সব উনুন বেয়ে উপচে পড়ে।

আকাশ হতে চেয়ে যে বউটি ঘর ছেড়েছিল,
সে আজ দামোদরকে চায়।
কলকে’ফুলে বেলে মাটি,
ঘাসের সংসার আজ সন্ন্যাসীর আশ্রম।

আমি ফুরিয়ে আসা কমলালেবু জমা করি,
অসময়ে মেঘ করে কমলা রঙের।
উঠোনে একবার দামোদর এসে উঁকি দিয়ে যায়..
মেঘ গুলোও দামোদর চায়।
দামোদর চায় হলদে সুখ, মরচে ধরা!
কিন্তু সেদিন দুপুরে গোটা দামোদর
আমার নামেই লিখে দিয়েছিলে তুমি।

আমি দামোদরে ইটভাটা খুঁজি, লালচে চুলের হরিণী মেয়েটিকে খুঁজি।
আমি দামোদরে লাল মাটি খুঁজি, যুবক টির বিদ্রোহ খুঁজি।
আমি দামোদরে একটু রোদ্দুর খুঁজি, হারিয়ে যাওয়া একলা শালিক কে খুঁজি।
এখন আমি বুকের ভিতর দামোদর’কে পুষি।