ডিসেম্বরেই মুক্তি পাবে মুক্তিযুদ্ধের চলচ্চিত্র “একজন মহান পিতা’

5
232

বাঙ্গালী জাতির অন্যতম প্রধান গৌরবময় অধ্যায় মহান মুক্তিযুদ্ধ। তবে গৌরবময় এই মুক্তিযুদ্ধের হাজারো কালজয়ী অধ্যায় নাম না-জানা তালিকায় পড়ে আছে। বিশেষ করে বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত স্বপ্ন সোনার বাংলা বাস্তবায়নের বাস্তবতায় ঝটিকা অভিযান চলাকালীন মুক্তিযুদ্ধের পরাজিত শক্তি বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা ও জাতীয় চার নেতাকে নৃশংস ভাবে হত্যার মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় চলে আসে। তৎকালীন অর্বাচীন শাসকগোষ্ঠী স্বাধীনতার সঠিক ইতিহাস বিকৃত করার ঘৃণিত জঘণ্য উৎসবে মেতে ওঠে! দীর্ঘ ২১ বছর পর স্বাধীনতার চেতনার শক্তি ক্ষমতায় এলে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস পুনরুদ্ধারের কাজ শুরু হয়। বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতাত্তোর স্বদেশ পুনর্গঠনের প্রাক্কালে নিপিড়ীত বীরাঙ্গনা মা বোনদের তাদের স্বজনদের কাছে ফিরিয়ে দিতে গেলে-তারা প্রত্যাখ্যান করে, এমনকি পারিবারিক পরিচয় দিতেও দ্বিধাবোধ করে। তখন তাদের পাশে দাঁড়ান জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তিনি বলেন- ‘নির্যাতিতা সকল নারীই আমার মেয়ে’। তিনি আরও বলেন ‘ওদের পিতার নাম শেখ মুজিবুর রহমান আর ঠিকানা ধানমণ্ডি-৩২’। ইতিহাসের এমনই এক কালজয়ী অধ্যায় নিয়ে নির্মিত হয়েছে চলচ্চিত্র ‘একজন মহান পিতা’।

একজন মহান পিতাবরেণ্য নির্মাতা মির্জা সাখাওয়াৎ হোসেনের পরিচালনায় এ চলচ্চিত্রে আরও উঠে এসেছে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তৎকালীন শিল্প সংস্কৃতি বিরোধী পাকিস্তানীদের নৃশংসতার তথ্যচিত্র। তথ্যগত কারণেই মহান মুক্তিযুদ্ধের এক অমর দলিল হয়ে উঠেছে চলচ্চিত্র ‘একজন মহান পিতা’। শুধু এই গল্পই নয় বরং মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মত্যাগ করা বীরাঙ্গনাদের বীরত্বগাঁথার গল্প উঠে এসেছে ‘একজন মহান পিতা’ চলচ্চিত্রে। চলচ্চিত্রের শূটিং সম্প্রতি শেষ হয়েছে।
‘একজন মহান পিতা’ চলচ্চিত্রের জন্মকথা প্রসঙ্গে নির্মাতা মির্জা সাখাওয়াৎ হোসেন বলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সীমাহীন উদারতার একটি বিষয়কে উপজীব্য করে বেশ ক’বছর আগে এই গল্পটি লিখেছিলাম। ২০১৬ সালে এই গল্প নিয়ে একটি বেতার নাটকও করেছিলাম। নাটকটি বাংলাদেশ বেতার ঢাকা কেন্দ্র থেকে সম্প্রচার হয়েছিল। সেই গল্পটি ভেঙে আরও জীবন্ত করে তোলার চেষ্টা করেছি। আর এটির বাস্তবরূপ দেয়ার জন্য এগিয়ে আসেন বঙ্গমাতা সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি শেখ শাহ আলম। তার ঐকান্তিক আগ্রহ এবং সহযোগিতায় চলচ্চিত্রটি আলোর মুখ দেখতে চলেছে।


মির্জা সাখাওয়াৎ হোসেন আরও বলেন চলচ্চিত্রের প্রতিপাদ্য বিষয় আমাদের মুক্তিযুদ্ধে রাজাকার হানাদার দ্বারা নিপীড়িত নারীদের যুদ্ধ পরবর্তী পরিস্থিতি। সে সময়টা খুব সহজ ছিল না। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটি গঠনে তখন জাতির পিতা অক্লান্ত পরিশ্রম করছিলেন। অন্যদিকে বীরাঙ্গনা নারীদের পুনর্বাসন করা ছিল একটি চ্যালেঞ্জ। অনেক পরিবার এই মেয়েদের গ্রহণ করেনি। এমন জটিল পরিস্থিতিতে জাতির পিতা এই মেয়েদের নিজের মেয়ে বলে ঘোষণা দেন। তাদের সম্মান ফিরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করেছেন। অনেককে বিয়ে দিয়ে সংসার করে দিয়েছেন। এমন গল্পকে উপজীব্য করে এই চলচ্চিত্রে যুদ্ধ পরবর্তী বাংলার বীরাঙ্গনা মায়েদের জীবনের একটি মর্মান্তিক ইতিহাস তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে।

একজন মহান পিতাবঙ্গবন্ধুর স্মৃতির শ্রদ্ধা জানিয়ে জাতির পিতার জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে ‘একজন মহান পিতা’ চলচ্চিত্রটি খুব কম সময়ে শুটিং শেষ করেছি। এখানে যারা পারফর্মেন্স করেছেন তারা অধিকাংশ অপেশাদার হলেও অত্যন্ত আন্তরিকতা ও দক্ষতার সঙ্গে কাজ করেছেন। এই চলচ্চিত্রের গল্পটি আমাদের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের একটি হৃদয়বিদারক অধ্যায়। এ মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের নতুন এক ইতিহাস এই প্রজন্ম জানতে পারবেন। আশা করি মুক্তির পর চলচ্চিত্র দেখে দর্শকদের ভাল লাগবে। জাতির পিতার জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে নির্মিত এই চলচ্চিত্রটি বিজয়ের মাস ডিসেম্বরে মুক্তি দেয়ার আয়োজন চলছে। আগামী ডিসেম্বর মাসে মুক্তি দেয়ার লক্ষে দ্রুত এডিটিং ও ডাবিংয়ের কাজ শেষ করবেন তিনি।
একজন বহুমাত্রিক লেখক গবেষক সম্পাদক ও নাট্যকার, টিভি ও চলচ্চিত্র নির্মাতা পরিচালক শ্রদ্ধেয় মির্জা সাখাওয়াৎ হোসেন। বরেণ্য এই নির্মাতা সম্প্রতি নতুন চলচ্চিত্র নির্মাণ শেষ করেছেন কাজ মহান মুক্তিযুদ্ধের উপর সুদীর্ঘ গবেষণার ফসল চলচ্চিত্র ‘একজন মহান পিতা’। চলচ্চিত্রটি নিবেদন করেছেন বঙ্গমাতা সাংস্কৃতিক জোট। চলচ্চিত্রটির নির্বাহী প্রযোজক শেখ শাহ আলম।চলচ্চিত্রের সিনেমাটোগ্রাফার সৈয়দ রাশিদুল হাসান। চলচ্চিত্রের প্রধান দুটি চরিত্রে অভিনয় করেছেন নবাগতা মির্জা আফরিন ও হিমেল রাজ। আরও আছেন, আলভী সরকার, শেখ শাহ আলম, রাশেদ রেহমান, শ্যামল কান্তি নাগ, রাশেদুল ইসলাম রাজিব, রাকিব হোসেন, সাজু আহমেদ, আব্দুর রাজ্জাক খোকন সাগরিকা মন্ডল, সৃষ্টি মির্জাসহ প্রমুখ। চলচ্চিত্রের গবেষণা, কাহিনী, চিত্রনাট্য ও পরিচালনা করেছেন মির্জা সাখাওয়াৎ হোসেন নিজেই।