চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে অবৈধ ভাবে স্কুলের সরকারি গাছ কাটার অভিযোগ

0
252

ফয়সাল আজম অপু, নিজস্ব প্রতিবেদক

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে সরকারি গাছ কাটার অভিযোগ উঠেছে একজন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির বিরুদ্ধে। কমিটির সভাপতি হলেন শিবগঞ্জ উপজেলার ১৩ নং ঘোড়াপাখিয়া ইউনিয়নের দেওয়ান টোলা গ্রামের মৃত মোঃ ইলিয়াস উদ্দিনের ছেলে মোঃ রেজাউল করিম। জানা যায়, গত ৬/৯/১৯৭৫ ইং তারিখে দেওয়ান টোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে জমিদাতা হিসাবে তৎসময়-১৫/২০টি আম গাছ সহ জমি দান করেন (১) দাতা মোহাম্মদ ইলিয়াস উদ্দিন পিতা হাজী মোঃ ইসমাইল হক (২) দাতা মোঃ মোখলেছুর রহমান পিতা (মৃত) মোঃ তামেজ উদ্দিন যার দাগ নং (৭৭৭২-৮৫৬৪) খতিয়ান নং (২৫২৭-৫২১১) তবে অপর দাতা মোঃ মোখলেছুর রহমানের পুত্র মোঃ সাজেমান আলী অভিযোগ করে বলেন আমাদেরকে দাতা হিসাবে আমাকে বা আমার বাবার ওয়ারিশ গণ কে কমিটিতে কখনো অন্তর্ভূক্ত করে নাই।
তাদের পরিবারের ভাই বোন ভাবি ও পরিবারের নিজস্ব লোকজন দিয়ে পকেট কমিটি তৈরি করে স্কুলের ধন সম্পদ লুটেপুটে খাচ্ছে। তিনি আরো অভিযোগ করে বলেন বছরের পর বছর ধরে স্কুলের জমির আম বাগান বিক্রি করে যে টাকা আসে সেই টাকা কখনো সে স্কুলের কাজে ব্যয় করে নাই। গত ইং-৩/৯/২০২০ তারিখে কোন সরকারি অনুমতি না থাকলেও নিজের ইচ্ছামত আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে কোন টেন্ডার ছাড়াই জোরপূর্বক অবৈধ ভাবে স্কুলের জমির প্রায়-২৫ টি আম গাছ এক লক্ষ বিশ হাজার টাকায় বিক্রি করে। আম গাছ কেটে জমিটি ফাঁকা করে দেয়। সরেজমিনে গিয়ে ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্কুলের প্রধান শিক্ষক মোঃ এন্তাজ আলীর নিকট জানতে চাওয়া হলে তিনি সত্যতা স্বীকার করে এই প্রতিবেদক কে বলেন অল্প কিছুদিন আগে এই স্কুলে নিয়োগ পেয়েছি। আগের হিসাব নিকাশ এর ব্যাপারে কিছুই বলতে পারব না। তিনি আরও বলেন, আমি আগে জানতাম না যে স্কুলের জমিতে কোন আম বাগান আছে। তবে গাছগুলো কেটে বিক্রি করার পর আমি জানতে পারি যে এই টা স্কুলের জমির আমবাগান ছিল। আমি মনে করি আসলে এটা নীতির বহির্ভূত কাজ নিঃসন্দেহে সে এটা অন্যায় কাজ করেছে, তার শাস্তি হওয়া উচিত। আমি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। এই বিষয়ে সরোজমিনে ঘটনার সুস্থ তদন্তের জন্য অপর দাতা মোঃ মোখলেসুর রহমানের পুত্র মোঃ সাজেমান আলী শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাকিব আল রাব্বি বরাবর ও শিবগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার বরাবর একটি লিখিত আবেদন প্রদান করেন।

শিবগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সিরাজুল ইসলাম মুঠোফোনে বলেন আমি এখন এলপিআর’ এ আছি বর্তমান অফিসারের সাথে কথা বলতে বলেন। অপরদিকে, বর্তমান শিবগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আসাদ বলেন আমি এ বিষয়ে অবগত নয়, আগের অফিসারের সাথে কথা বলতে বলে এড়িয়ে যান।
এ বিষয়ে শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোবাইল বন্ধ থাকায় একাধিকবার ফোন দিয়েও পাওয়া যায়নি।
এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করে আসল দোষী অপরাধী ব্যক্তিকে আইনের আওতায় এনে শাস্তির ব্যবস্থা করার জন্য জোর দাবী জানায় ছাত্র/ছাত্রীদের অভিভাবক ও এলাকার সচেতন মহল।