চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় দুটি বাঘ শাবকের মৃত‌্যু

5
257


চট্টগ্রাম অফিস:

চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় জয়া নামে এক বাঘিনীর গর্ভে জন্ম নেওয়া তিন সন্তানের ভেতর দুটিরই মৃত্যু হয়েছে। গত ১৪ নভেম্বর ব্যাঘ্র দম্পতি রাজ ও জয়ার ঘরে জন্ম নেয় তিনটি শাবক। জীবিত শাবকটির অবস্থাও সংকটাপন্ন। চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ বলছে, তৃতীয় এই শাবকটিকে বাঁচিয়ে রাখতে ফিডারে করে দুধ খাওয়াচ্ছে কর্তৃপক্ষ এবং সম্ভাব্য সবকিছু করছেন তারা।

বৃহস্পতিবার (২৬ নভেম্বর) দুই বাঘের বাচ্চার মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেন চিড়িয়াখানাটির ভ্রারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক ডা. শাহাদাত হোসেন শুভ।

তিনি জানান, গত ১৪ নভেম্বর তিনটি বাঘের ছানার জন্ম দেয় জয়া নামে ওই বাঘিনী। প্রসবের একদিন পর তিন ছানাকে হঠাৎ করেই বুকের দুধ খাওয়ানো বন্ধ করে দেয় সে। ফলে গত ১৫ নভেম্বর মারা যায় একটি ছানা। এরপরই অপর দুই বাঘ ছানাকে মায়ের থেকে আলাদা করে ফেলা হলে ৩ দিনের মাথায় ১৮ নভেম্বর মৃত্যু হয় আরও এক ব্যাঘ্র শিশুর।

তবে এখনও বেঁচে থাকা আরও একটি শিশুর শারীরিক অবস্থা কিছুটা ভাল হলেও এখনও শঙ্কামুক্ত নয় বলে জানান তিনি।

চিড়িয়াখানাটির নির্বাহী কমিটির সদস্য সচিব ও হাটহাজারি থানার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুহুল আমিন জানান, বেঁচে যাওয়া একমাত্র ব্যাঘ্র শিশুটিকে রক্ষায় সার্বক্ষণিক দেখাশোনার জন্য দুইজন কর্মীকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
চিড়িয়াখানার পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে না পারা অথবা প্রথমবারের মতো সন্তান জন্ম দেওয়ায় তাদের বুকের দুধ খাওয়াতে অনীহা, যেকোনও একটি কারণ এক্ষেত্রে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. মনিরুল এইচ খান।
এদিকে, সন্তানদের না খাওয়ানোর জন্য ব্যাঘ্র শাবকদের মায়ের কাছ থেকে আলাদা করে দেওয়ার সিদ্ধান্তটিকে ইতিবাচক বলেও মনে করছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এ অধ্যাপক।

প্রসঙ্গত, ১৯৮৯ সালে চট্টগ্রামে স্থাপিত ৬ একরের এ চিড়িয়াখানাটিতে সদ্য জন্ম নেওয়া এ শাবকটিসহ মোট ৬টি বাঘ রয়েছে।