চট্টগ্রামে আমজাদ চেয়ারম্যান হত্যা মামলায় ১০ জনের ফাঁসির আদেশ

0
237


চট্টগ্রাম অফিস:

চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলায় ২১ বছর আগে সংঘটিত আওয়ামী লীগ নেতা ও ইউপি চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন হত্যা মামলায় ১০ জনকে মৃত্যুদণ্ড ও ৫ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। রায়ে ৪ আসামীকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

আজ রবিবার (১৩ ডিসেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টায় চট্টগ্রাম বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক একেএম মোজাম্মেল হক এ রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন, মানিক, তারেক, ফরোখ আহমদ, বসির আহমেদ, ইদ্রীস, জাহেদ, রাসেদ, নাসিরউদ্দিন ও জসিমউদ্দিন। তাদের সবার বাড়ি সাতকানিয়া উপজেলার সোনাকানিয়া এলাকায়।

মামলার বাদী পক্ষের আইনজীবী এসইউএম নুরুল ইসলাম বিষয়টি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমাদের প্রত্যাশা ছিল আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি হবে।’ আমরা রায়ে সন্তুষ্ট।

মামলার বাদী নিহত আমজাদ হোসেনেরi স্ত্রী সৈয়দা রওশন আক্তার বলেন, ‘স্বামী হত্যার বিচার চেয়ে ২১ বছর ধরে অপেক্ষা করেছি। আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড পেয়ে আমি আনন্দিত। আমি আর কিছু চাই না।’

উল্লেখ্য- ১৯৯৯ সালের ৩ অক্টোবর সাতকানিয়ার মির্জাখীল দরবার শরীফের সামনে সোনাকানিয়া ইউনিয়নের পর পর দু’বারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা আমজাদ হোসেনকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় পরের দিন ৪ অক্টোবর নিহতের স্ত্রী সৈয়দা রওশন আকতার বাদী হয়ে সাতকানিয়া থানায় ২১ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে ১ জন আসামিকে বাদ দিয়ে ২০ জনকে অভিযুক্ত করে পুলিশ ২০০০ সালের ২২ ডিসেম্বর আদালতে মামলার চার্জশিট দাখিল করে।

গত ১১ নভেম্বর এ মামলার যুক্তিতর্ক শেষে উপস্থিত আসামিদের জামিন বাতিল করে সাতকানিয়া সদর ইউপির চেয়ারম্যান নেজাম উদ্দিন, ইমতিয়াজ হোসেন ওরফে ঠোঁটকাটা মানিক, মো. ইদ্রিস, মো. জাহেদ হাসনাইন, আবু মোহাম্মদ রাশেদ হাসনাইন, ফোরখ আহমদ, মো. হারুনর রশিদ, জিল্লুর রহমান, মো. রফিক ও আবু তাহেরসহ ১০ জনকে জেল হাজতে পাঠায় আদালত।

দীর্ঘ প্রায় ২১ বছরের এ বিচারিক প্রক্রিয়ায় ২১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। এ মামলার অপর ১০ আসামির মধ্যে লুৎফুর রহমান চৌধুরী ওরফে লুতু মারা গেছেন। অপরদিকে আওয়ামী লীগ নেতা বশির আহমদ চৌধুরী, মো. ইদ্রিস, তারেক, আইয়ুব, মোরশেদুল আলম, আব্দুল মালেক, জসিম উদ্দিন, খায়ের আহমদ ও মো. মোস্তাকসহ ৯ জন আসামি পলাতক রয়েছেন। এ ৯ আসামির মধ্যে অনেকে বিচারকার্য শুরুতেই পলাতক ছিলেন। আবার বশিরসহ কয়েকজন গ্রেপ্তার পরবর্তী জামিনে বেরিয়ে পলাতক রয়েছেন।