গোাপালঞ্জে চুয়েট শিক্ষকের অকাল মৃত্যুতে শোক ও স্মরণ সভা অনুষ্ঠিত

0
311

গোপালগঞ্জ থেকে মিজানুর রহমান মানিক:

গোপালগঞ্জ সদরে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী টুঠামান্দ্রা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন মেধাবী শিক্ষার্থী এবং চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক অভিজিৎ হীরার অকাল মৃত্যুতে স্মরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার বিকেলে টুঠামান্দ্রা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র-ছাত্রীদের আয়োজনে বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে এ স্মরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। স্মরণ সভায় সভাপতিত্ব করেন ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের অবসরপ্রাপ্ত ডেন্টাল সার্জন ডা: দুলাল চন্দ্র বিশ্বাস।

বরিশাল টি.টি কলেজের সহযোগী অধ্যাপক সঞ্জয় গোলদার এবং গোপালগঞ্জ সরকারী নজরুল কলেজের সহকারী অধ্যাপক সঞ্জিৎ বল এর সঞ্চালনায় এ স্মরণ সভায় আগত গুনীজন, শিক্ষক, জনপ্রতিনিধি, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের আবেগ ও ভালোবাসায় কেউই চোখের জল সংবরণ করতে পারেননি, স্মরণ সভা পরিনত হয় শোক সভায়।

অভিজিৎ হীরার স্মরণ সভায় অন্যান্যদের মাঝে বক্তব্য রাখেন, শরিয়তপুরের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ প্রশান্ত কুমার বিশ্বাস, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের এ্যানেস্থেসিওলজিস্ট পরামর্শদাতা বিবেকানন্দ কীর্ত্তনীয়া, জনপ্রশাসন মন্ত্রনালয়ের উপ-সচিব দিপংকর বিশ্বাস, নেপ এর উর্ধ্বতন বিশেষজ্ঞ রঙ্গলাল রায়, খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইইই অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. কে.এম. আজহারুল হাসান, ই.সি.ই. বিভাগ প্রফেসর ড. মো: মোস্তাফিজুর রহমান, শেখ সায়েরা খাতুন মেডিকেল কলেজের অবসরপ্রাপ্ত সহযোগী অধ্যাপক ডা: পরিমল সরকার, টুঠামান্দ্রা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নীহার কান্তি বাছাড়, সাহাপুর ইউনিয়নের প্রাক্তন চেয়ারম্যান বিনয় সরকার (অনাদী ), বর্তমান চেয়ারম্যান সুবোধ চন্দ্র হীরা, টুঠামান্দ্রা উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি দিগবিজয় বালা সহ আরো অনেকে।

টুঠামান্দ্রা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষক অভিজিৎ এর বাবা মৃনাল কান্তি হীরা স্মরণ সভায় উপস্থিত ছিলেন, কিন্তু তিনি কোনো কথা বলতে পারেননি।

বক্তারা বলেন, কতটা মেধাবী হলে মাত্র ২৭ বছর বয়সে একজন মানুষ “অধ্যাপক” হতে পারেন ! আর এটা সম্ভব হয়েছে আমাদের অভিজিতের বেলায়। চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত সহকারী অধ্যাপক অভিজিৎ হীরা তিন বছরের সময়সীমার মধ্যে ডক্টরেট লাভ করতে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান।

মাত্র দেড় বছরের মাথায় ১২টি থিসিস সম্পন্ন করেন তিনি, যুক্তরাষ্ট্রের মারকুয়েট বিশ্ববিদ্যালয়ের যে অধ্যাপকের অধীনে থিসিস করছিলেন অভিজিৎ, অভিজিৎ সম্পর্কে সেই অধ্যাপকের মন্তব্য ছিলো এরকমের, দুর্লভ মেধাবী। তার অকাল মৃত্যুতে শুধু আমরা টুঠামান্দ্রাবাসী সহ, পুরো বাংলাদেশ একজন দুর্লভ মেধাবীকে হারালো, দেশের অপূরণীয় ক্ষতি হলো।

উল্লেখ্য, গত ১৮ ফেব্রুয়ারী তারিখে অভিজিৎ হঠাৎ করে আত্মহননের পথ বেছে নিলে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা অবস্থায় অভিজিৎ এর মৃত্যু হয়, নিজেকে শেষ করে ফেলার সিদ্ধান্ত কেন নিলেন তিনি, তার এর স্বজনরা কেউই বলতে পারছেন না।