গোপালগঞ্জে বেসরকারি মাধ্যমিক স্কুলে নীতি বহির্ভূত নিয়োগের অভিযোগ

0
342

গোপালগঞ্জ জেলা প্রতিনিধিঃ

গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার ডালনিয়া আই এ উচ্চ বিদ্যালয়ে মালি পদে নীতিমালা বহির্ভূতভাবে নিয়োগের অভিযোগ উঠেছে।

এদিকে, নীতিমালার বাইরে গিয়ে নিয়োগ পাওয়ায় চরম বিপাকেও পড়েছেন নিয়োগ পাওয়া ওই মালি, তার বেতন বিল হচ্ছে না।

অনুসন্ধানে জানাযায়, শিক্ষামন্ত্রনালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বিভাগ- ৩, এর উপসচিব মোঃ কামরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত পত্রে ৩০ মে, ২০১৯ বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (স্কুল ও কলেজ) জনবল কাঠামো ও এম.পি.ও. নীতিমালা- ২০১৮ অনুযায়ী বৃদ্ধিপ্রাপ্ত নতুন পদে নিয়োগ প্রদান বিষয়ে মোট ৯টি পদে নিয়োগের লক্ষ্যে বিভিন্ন অর্থ বছর উল্লেখ পূর্বক স্পষ্ট নির্দেশনা দেয়া হয়।

এর মধ্যে ২০২০-২০২১ অর্থবছরে নিন্ম মাধ্যমিক স্তরে সহকারী শিক্ষক (বাংলা), নৈশপ্রহরী ও পরিচ্ছন্নতা কর্মী- এই ৩টি পদে নিয়োগের নির্দেশনা দেয়া হয়, পত্রে উল্লেখিত ৯টি পদের মধ্যে অফিস সহায়ক (মালি) পদে নিয়োগের কোনো নির্দেশনা উল্লেখ নেই।

অথচ গোপালগঞ্জ সদর উপজেলাধীন ডালনিয়া আইএ উচ্চ বিদ্যালয়ে অফিস সহায়ক (মালি) পদে নিয়োগের ছাড়পত্র প্রাপ্তির জন্য ০৩ নভেম্বর, ২০২০ তারিখে প্রধান শিক্ষকের আবেদনের প্রেক্ষিতে সাবেক জেলা শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) খায়রুল আনাম মোঃ আফতাবুর রহমান হেলালী বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (স্কুল ও কলেজ) জনবল কাঠামো ও এম.পি.ও. নীতিমালা- ২০১৮ কে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে নীতিমালায় নির্দেশিত সময়সীমার প্রায় ৮ মাস আগে মাত্র ১দিনের মধ্যেই ০৪ নভেম্বর, ২০২০ তারিখে তড়িঘড়ি করে স্মারক নাম্বার বিহীন ছাড়পত্র প্রদান করেন।

পরবর্তীতে অফিস সহায়ক (মালি) পদে নিয়োগ পরীক্ষা হয় ২৬ তারিখে, এবং ২৭ ডিসেম্বর ডালনিয়া গ্রামের কামরুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তিকে নিয়োগ দেয়া হয়। যিনি ২৮ ডিসেম্বর, ২০২০ এ যোগদান ওই স্কুলে যোগদান করেন।

তবে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেয়া এবং ডিজি’র প্রতিনিধি মনোনয়ন সংক্রান্ত কোনো ফাইল নোট দেখাতে পারেননি অফিস সংশ্লিষ্ট কেউই।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ডালনিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক ও সদস্য ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, মন্ত্রনালয় থেকে ইস্যুকৃত নীতিমালা উপেক্ষা করে বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটি তাদের ইচ্ছেমতো রেজুলেশন করে কিভাবে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারে, এটা আমরা বিস্মিত, মুখ বুজে সহ্য করা ছাড়া আমাদের কিছু করার নেই।

অফিস সহায়ক (মালি) পদে নিয়োগপ্রাপ্ত কামরুল ইসলাম বলেন, আমি অতকিছু জানিনা, বুঝিনা। মালি পদে নিয়োগের জন্য আবেদন করে পরীক্ষা দিয়েছি, নিয়োগ পেয়ে কাজ করছি, তবে আমার বেতন বিল হয়নি।

এ বিষয়ে ডালনিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বীজন কান্তি মল্লিক মোবাইল ফোনে জানান, বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির মিটিং এ গৃহীত সিদ্ধান্ত মোতাবেক আমি আমার স্কুলে অফিস সহায়ক (মালি) পদে নিয়োগের ছাড়পত্র প্রাপ্তির উদ্দেশ্যে জেলা শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) বরাবর আবেদন করেছি, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (স্কুল ও কলেজ) জনবল কাঠামো ও এম.পি.ও. নীতিমালা- ২০১৮ সম্পর্কে আমি কিছু বলতে পারবো না।

সাবেক জেলা শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) বর্তমানে সহকারী জেলা শিক্ষা অফিসার, গোপালগঞ্জ খায়রুল আনাম মোঃ আফতাবুর রহমান হেলালীর কাছে ডালনিয়া আইএ উচ্চ বিদ্যালয়ে নীতিমালা বহির্ভূত উপায়ে মালি পদে নিয়োগ প্রদান প্রসঙ্গে জানতে চাওয়া হলে তার কথায় কিছু অসঙ্গতি পাওয়া যায়।

নীতিমালা বহির্ভুত নিয়োগের ব্যাপারে তার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি একেক বার একেক কথা বলেন। প্রথমে বলেন, এ নিয়োগের ক্ষেত্রে ২০১৩ সালের নীতিমালা অনুসরণ করা হয়েছে, পরক্ষণেই আবার বলেন তার ভুল হয়েছে।

অথচ তিনি তার স্বাক্ষরিত ছাড়পত্র প্রদানের পত্রে ২০১৮ এর নীতিমালা অনুসরণ করার কথা উল্লেখ করেছেন।

গোপালগঞ্জ জেলা শিক্ষা অফিসার মুহাম্মদ সিদ্দিকুল ইসলাম এ প্রসঙ্গে বলেন, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (স্কুল ও কলেজ) জনবল কাঠামো ও এম.পি.ও. নীতিমালা- ২০১৮ অফিস সহায়ক (মালি) পদে নিয়োগের কোনো নির্দেশনা উল্লেখ নেই, তাই এ নিয়োগও বিধি সম্মত হয়নি।

গোপালগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মো: ইলিয়াছুর রহমান এ প্রতিবেদককে বলেন, বিধি অনুযায়ী নিয়োগ দিতে হবে, এর ব্যত্যয় হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।