আজিরন বেওয়া এক অনবদ্য জীবনঘনিষ্ঠ নির্মাণশৈলী

0
207

দারুণ একটা বই পড়ে শেষ করলাম। প্রিয় লেখক, চলচ্চিত্রকার রাশেদ রেহমানের অনবদ্য উপন্যাস ‘আজিরন বেওয়া’। যমুনার ঢেউয়ের সাথে বহমান চরের মানুষদের জীবনাখ্যান নিপুণ হাতে তুলে ধরেছেন লেখক। দরিদ্র খেটে খাওয়া মানুষদের জীবন পরম মমতায় স্থান পেয়েছে বইটিতে। দারিদ্র্যের সঙ্গে নিরন্তর যুদ্ধে এক অসামান্য সংগ্রামী নারী আজিরন। তবে দারিদ্র্য নামক এক মহাদানব শেষ পর্যন্ত লড়াই করে যায় আজিরনের সঙ্গে। এ লড়াইয়ে সব হারিয়ে শেষ পর্যন্ত ‘আজিরন বেওয়া’ হয়ে যান সেই নারী।
চরাঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকা, আচার-সংস্কৃতির চমৎকার উপস্থাপন উপন্যাসটিকে জীবন্ত করে তুলেছে। বইটি পড়তে গিয়ে বেশ কিছু আঞ্চলিক শব্দের সাথে পরিচিত হই আমি, যেমন- মাদার বাঁশ, ধামাইল নৃত্য, কোমক, কাবার ইত্যাদি। অন্য অঞ্চলের মানুষের কাছে শব্দগুলো অপরিচিত হলেও লেখক তার লেখায় এগুলো এমনভাবে ব্যবহার করেছেন যে আলাদা করে অভিধান খুঁজতে হবে না। এখানেই লেখক স্বার্থক।
একরৈখিক সরল বর্ণনায় লেখা উপন্যাসটিতে প্রকৃতির চমৎকার উপস্থাপন আমাকে আকৃষ্ট করেছে। নদীবিধৌত এই প্রকৃতির সাথে মানুষের জীবন কত প্রকটভাবে লেপ্টে আছে তার উদাহরণ এই আখ্যান। গ্রামীণ সমাজে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক ও অন্যের স্ত্রীকে ভাগিয়ে নেওয়ার মতো ঘটনা অহরহ ঘটে। আলোচ্য উপন্যাসটি এই দিকটিও এড়িয়ে যায়নি। কারণ এটিও যে জীবনেরই অংশ।
রাশেদ রেহমান বাংলা কথাসাহিত্যে শক্ত জায়গা করে নেবেন বলেই আমার বিশ্বাস। চলচ্চিত্রাঙ্গনেও তার হাতে ফুটুক নানা রঙের নানা গন্ধের চমৎকার সব ফুল। সুশোভিত হোক আমাদের চারপাশ।
বইটি প্রকাশ করেছে তিউড়ি প্রকাশন। তবে প্রথম সংস্করণ শেষ হয়ে যাওয়ায় দ্বিতীয় সংস্করণ প্রকাশের প্রস্তুতি নিচ্ছে জলকথা প্রকাশ।
এটি কোন আনুষ্ঠানিক বুক রিভিউ নয়। বই পড়া শেষে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া বলা যায়।
সবার জন্য শুভকামনা।

আসাদ জুবায়ের  ( শিশু সাহিত্যিক)